জেলা 

উত্তরবঙ্গে জমি আন্দোলনে সিঙ্গুরের ছায়া ; কৃষকের পাশে বিজেপি ; চাপে তৃণমূল প্রশাসন

শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

বাংলার জনরব ডেস্ক : সিঙ্গুর আন্দোলনের ছায়া পরিলক্ষিত হচ্ছে শিলিগুড়ির জমি আন্দোলনে । উত্তরবঙ্গের শিলিগুড়ির গাজলডোবা এলাকায় সরকারের জমি অধিগ্রহণের বিরুদ্ধে চাষীরা জোটবদ্ধভাবে আন্দোলনে নেমেছে । আর এই আন্দোলনের নেপথ্যে রয়েছে বিজেপির কৃষক মোর্চা ।

গত অক্টোবরে গজলডোবায় তিস্তা নদীর সেচ বাঁধের পাশে পর্যটক হাব গড়ে তোলার ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী প্রায় ২১০ একর জমির উপর গড়ে ওঠার কথা ছিলভোরের আলোনামে ওই পর্যটক হাবের।

সেইভোরের আলোপ্রকল্পকে কেন্দ্র করেই গজলডোবা থেকে বেলাকোবা হয়ে বোদাগঞ্জের মিলনপল্লি এলাকায় মঙ্গলবার প্রবল বাধার মুখে পড়লেন সরকারি কর্মী এবং তাঁদের সঙ্গে থাকা ঠিকাদার সংস্থার কর্মীরা। আন্দোলনকারী কৃষকদের দাবি, প্রস্তাবিত পর্যটক হাব থেকে বেশ কিছুটা দূরে মিলনপল্লি এলাকায় কয়েক দিন আগে স্থানীয় পুলিশ ফাঁড়ির কর্মীদের সঙ্গে নিয়ে ভূমি রাজস্ব দফতরের কিছু কর্মী জমি মাপজোক করা শুরু করেন। কী উদ্দেশ্যে জমি মাপজোক, তা নিয়ে স্থানীয় কৃষকরা প্রশ্ন করলে তাঁদেরকে জানানো হয়, ‘ভোরের আলোপর্যটন হাবের জন্য ওই জমি অধিগ্রহণ করবে রাজ্য সরকার। ওই সময় তাঁরা প্রকল্পের একটি বোর্ডও লাগিয়ে দিয়ে যান।

স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, তাঁরা ঘুণাক্ষরেও কখনও জানতে পারেননি ওই জমি অধিগ্রহণ করা হবে। তিস্তা নদীর চর সংলগ্ন ওই জমি তিন ফসলি। ওই এলাকার মানুষ মূলত কৃষিজীবী। আন্দোলনকারীদের দাবি, বাম সরকারের আমলে ২০০০ সালে তাঁদেরকে ওই জমির পাট্টা দেওয়া হয়েছিল। ভূমি রাজস্ব দফতরের কাছে সেই সমস্ত নথিও রয়েছে। তা সত্ত্বেও পাট্টা পাওয়া কৃষকদের সঙ্গে কোনও আলোচনা না করে বা তাঁদেরকে না জানিয়ে জমি অধিগ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু করে দিয়েছে সরকার।

আন্দোলনকারীদের দাবি, কী প্রকল্পের জন্য এবং কতটা জমি অধিগ্রহণ করা হবে তা নিয়েও কোনও স্পষ্ট বার্তা দেননি সরকারি আধিকারিকরা। এক কৃষক বলেন, ‘‘সরকার প্রয়োজনে জমি অধিগ্রহণ করতে পারে। কিন্তু অধিগ্রহণের নিয়ম আছে। জমির মালিক বা জমির স্বত্ত্বভোগীকে নোটিস পাঠাতে হয়। শুনানি করতে হয়।অভিযোগ, কোনও পদ্ধতি না মেনেই মঙ্গলবার হঠাৎ সরকারি কর্মী এবং ঠিকাদার সংস্থার কর্মীরা প্রকল্পের আরও কয়েকটি ফলক লাগাতে আসেন।

কৃষকদের আন্দোলনকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই সক্রিয় হয়ে উঠেছে বিজেপি। দিনের বিক্ষোভে উপস্থিত ছিলেন বিজেপির কৃষক শাখার রাজ্য সম্পাদক অরুণ মণ্ডল। তিনি বলেন, ‘‘আমরা কোনও ভাবেই কৃষকদের জমির অধিকার কেড়ে নিতে দেব না। জন্য আমরা লড়াই চালিয়ে যাব।তবে তৃণমূলের পক্ষ থেকে কারওর কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। জেলা প্রশাসনের এক কর্তার দাবি, যে জমি অধিগ্রহণ করা হচ্ছে তা মূলত সরকারি খাস জমি। সাড়ে আট একর জমি অধিগ্রহণ করা হবে। সেই জমিই চিহ্নিত করে ফলক লাগাতে গিয়েছিলেন কর্মীরা।

 

 


শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সম্পর্কিত নিবন্ধ

Leave a Comment