কলকাতা 

বেআইনি অটো বন্ধের দাবিতে আন্দোলনে পথে অটো চালকরা ; তৃণমূলের অটো ইউনিয়নের বিরুদ্ধে ক্ষোভে ফুঁসছে চালকরা

শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

বাংলার জনরব ডেস্ক : একে রাম রক্ষে নেই সুগ্রীব আবার দোসর । এই প্রচলিত প্রবাদ বাক্যই আবার সত্যি হতে চলেছে । বিজেপির উত্থানের সঙ্গে সঙ্গে তৃণমূলের দলে যেমন ভাঙন দেখা দিয়েছে একইভাবে অটো ইউনিয়নে বিদ্রোহ লক্ষ্য করা যাচ্ছে । তৃণমূলের স্থানীয় নেতাদের দাদাগিরি মুখ বুজে সহ্য করে আসছিল অটো চালকরা । লোকসভা ভোটের ফল প্রকাশ হওয়ার পর এবার বিদ্রোহের আঁচ শাসক দলের খাস সমর্থক হিসাবে পরিচিত অটো ইউনিয়নের নেতাদের বিরুদ্ধে।  একের পর এক জায়গায় শুরু হয়ে গিয়েছে বিক্ষোভ।

সোমবার হঠাৎ করেই শহরের অন্যতম ব্যস্ত এলাকা শিয়ালদহ-বেলেঘাটার অটো চলাচল বন্ধ করে দেন চালকদের বড় অংশ। বেলেঘাটা বিল্ডিং মোড়ের কাছে সমস্ত অটো দাঁড় করিয়ে রেখে তাঁরা বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। তাঁদের দাবি, অবিলম্বে ওই রুটে চলা বেআইনি অটো বন্ধ করতে হবে।

বিক্ষোভকারীরা বলেন, ‘‘আমাদের রুটে ২৮৬টি অটোর পারমিট রয়েছে। সেই সংখ্যাই অনেক। আমরা পরিবহণ দফতরকে অনুরোধ করেছিলাম যাতে, এই রুটে আর নতুন করে অটোর পারমিশন না দেওয়া হয়।”বিপুলবাবুর দাবি, তারপরেও দেখা যায়রুট ভরে যাচ্ছে একের পর এক ‘ভুতুড়ে’ অটোতে। যার সংখ্যা কমপক্ষে ৪০টি।: ‘‘আগে সমস্ত খরচ বাদ দিয়ে দিনের শেষে রোজগার হত ৪৫০-৫০০ টাকা। এখন সেই রোজগারই কমে এসেছে ৩০০-৩৫০ টাকায়।”

গত সপ্তাহে একই কারণে তিন দিন অটো চলাচল বন্ধ ছিল বাগুইআটি-উল্টোডাঙা রুটে। সেখানকার ধর্মঘটে যাওয়া চালকদের অভিযোগ,‘‘আমাদের রুটে পারমিট রয়েছে ৩২০টি অটোর। কিন্তু চলে ৫৭০টি অটো। অর্থাৎ প্রায় আড়াইশোটি অবৈধ অটো চলে ওই রুটে! একই ছবি উত্তর শহরতলির বিভিন্ন রুটে। সোদপুর-ডানলপ বা নাগেরবাজার থেকে দমদম, চিড়িয়ামোড়— সব জায়গাতেই একই অভিযোগ অটোচালকদের।  পরিবহন দফতর সূত্রে খবর, কলকাতা এবং শহরতলিতে ৪৭৫ টি অটো রুটের অনুমোদন রয়েছে। বৈধ পারমিট রয়েছে ৩১৮৬৬ টি অটোর। অটোচালকদের হিসাব অনুযায়ী কলকাতা শহর এবং শহরতলীতেই অবৈধ ভাবে চলছে প্রায় ১০ হাজার অটো, যা বৈধ অটোর এক-তৃতীয়াংশ।

যদিও ইউনিয়নের নেতারা এই সমস্ত অভিযোগই অস্বীকার করেছেন। তাদের দাবি,‘‘আমাদের রুটে চলা সমস্ত অটোরই বৈধ নথি রয়েছে। সিপিএম-বিজেপি হাত মিলিয়ে অটো ইউনিয়নগুলোয় অশান্তি পাকানোর চেষ্টা করছে।” অটোচালকদের পাল্টা বক্তব্য,‘‘নেতাদের বিরুদ্ধে কথা বললেই সবাই বিজেপি হয়ে যায়!’’

 

 

 


শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সম্পর্কিত নিবন্ধ

Leave a Comment