দেশ 

বিরোধীদের ইভিএম হ্যাকের অভিযোগ কী সত্যি হতে চলেছে ? দেশের ১১৯ লোকসভা কেন্দ্রে ‘ভুতুড়ে ভোটারের‘ সন্ধান ; মিলছে না অংক

শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

বাংলার জনরব ডেস্ক : ভোটের ফল প্রকাশের পর রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ইভিএম হ্যাকের কথা বলেছিলেন । কিন্ত তা সবার বিশ্বাস হয়নি । মোদীর বিপুল জয়কে মেনে নিয়েছিল বিরোধী দল কংগ্রেস । কিন্ত একটি বিশেষ নিউজ পোর্টাল সর্বপ্রথম ইভিএম মেশিনের প্রাপ্ত ভোটের সঙ্গে ভোট পড়ার সংখ্যা তফাৎ অনেক বেশি । অনেক ক্ষেত্রে জয় পরাজয়ও নির্ধারণ করছে বলে ওই ওয়েবসাইটটি বলেছে ।

ওই ওয়েবসাইটের অন্তর্তদন্তে দেখা গিয়েছে, বিহার ও উত্তরপ্রদেশের ১১৯টি আসনে প্রদত্ত ভোট এবং ইভিএমে গোনা ভোটের মধ্যে বিস্তর ফারাক। নির্বাচন কমিশনের অবশ্য জানিয়েছে, প্রদত্ত ভোট এবং ইভিএমের ভোটের মধ্যে কোনও ফারাক নেই। যদিও কয়েক জন প্রাক্তন নির্বাচন কমিশনারের মতে, এই ধরনের অভিযোগ এলে কমিশনের অবস্থান স্পষ্ট করা উচিত।

সংশ্লিষ্ট ওয়েবসাইটটি প্রদত্ত ভোটের ক্ষেত্রে তথ্য সংগ্রহ করেছে কমিশন এবং বিহার ও উত্তরপ্রদেশের নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইট থেকে। এ বার পটনা সাহিব ছিল নজরকাড়া কেন্দ্র। সেখানে বিজেপির রবিশঙ্কর প্রসাদ জয়ী হয়েছেন কংগ্রেসের শত্রুঘ্ন সিন্হাকে পরাজিত করে। ওয়েবসাইটটির বিশ্লেষণ, ওই কেন্দ্রে মোট ভোটার ২১,৩৬,৮০০ জন। ভোট প্রদানের হার ৪৩.১ শতাংশ অর্থাৎ ভোট পড়েছে ৯,২০,৯৬১টি। কিন্তু ইভিএমের গণনায় দেখা গিয়েছে ভোট পড়ছে ৯,৭৮,৬০২। অর্থাৎ, ইভিএমে ৫৭,৬৪১টি ভোট অতিরিক্ত গণনা হয়েছে। একই ছবি, পূর্ব চম্পারণ, পশ্চিম চম্পারণ, সেওহর, বাল্মীকি নগরের মতো একাধিক কেন্দ্রে। চার হাজার থেকে আট হাজার ভোটের ব্যবধানে জয়পরাজয় নির্ধারিত হওয়া বিহারের ১৭টি আসনে অতিরিক্ত ভোটের তথ্য সামনে এসেছে।

বিহারের কারাকাট, সাসারাম, জেহানাবাদ, পাটালিপুত্র, বক্সার এবং আরা কেন্দ্রে দেখা গিয়েছে, প্রদত্ত ভোটের তুলনায় ইভিএম-ভোট বেশ খানিকটা কম। যেমন, কারাকাট আসনে প্রদত্ত ভোট ৯,৬২,৭২১ এবং ইভিএমে গণনার পর ভোটের সংখ্যা ৮,৬৪,৫০৭। প্রশ্ন উঠছে, তা হলে কি অনেক ভোট গণনা হয়নি! যদিও ওই কেন্দ্রগুলিতে প্রদত্ত ভোট এবং ইভিএমে গণনা ভোটের ফারাকে জয়পরাজয় হেরফের হচ্ছে না। ওই ছ’টিই আসনেই জয়ী হয়েছেন এনডিএ প্রার্থীরা। জেহানাবাদে আবার তিন জায়গায় তিন রকম তথ্য দেখা যাচ্ছে।

উত্তরপ্রদেশের ৮০টি আসনের মধ্যে বিজেপি জয়ী ৬২টিতে। অন্তত ৫০টি আসনে অতিরিক্ত ভোটার রয়েছে বলে ওয়েবসাইটটির দাবি। লখনউয়ে বিজেপির রাজনাথ সিংহ জয়ী হয়েছেন ৩,৪৭,৩০২ ভোটে। সেখানে ভোটার ২০,৩৮,৭২৫ জন। রাজ্য নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইট অনুযায়ী, ৫৩.৫৩ শতাংশ অর্থাৎ, ১০,৯১,৩২৯টি ভোট পড়ছে। কিন্তু ইভিএমের গণনায় দেখা যাচ্ছে, ভোট পড়ছে ১১,০৭,১০০টি। মথুরা, বাগপত-সহ একাধিক আসনে একই ছবি। অনেক জায়গায় অতিরিক্ত ভোট ন’হাজারেরও বেশি। শাহজাহানপুর, রামপুর, আগরার মতো আসনগুলিতে প্রদত্ত ভোটের তুলনায় ইভিএমের ভোট কম।

এ প্রসঙ্গে প্রাক্তন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার এস ওয়াই কুরেশি বলেন, ‘‘রাজনৈতিক দলগুলির কোর্টে যাওয়া উচিত।’’ আরও দুই প্রাক্তন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার এইচ এস ব্রহ্ম এবং এন গোপালস্বামীর মতে, বিষয়টির ব্যাখ্যা দিতে বাধ্য কমিশন।

বিরোধীরা অবশ্য ইতিমধ্যেই ইভিএমের ‘বিশ্বাসযোগ্যতা’ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। বেশ কিছু সংবাদমাধ্যমে ‘ভুতুড়ে ভোটার’-এর খবর সামনে আসতে শুরু করেছে। কমিশন অবশ্য ওই অভিযোগ খারিজ করেছে। গত কাল বিবৃতি দিয়ে কমিশন জানিয়েছে, তাদের ওয়েবসাইটে ভোটদানের ‘সম্ভাব্য সংখ্যা’ থাকে। সামগ্রিক পরিসংখ্যান মেলার পরেই তা ওয়েবসাইটে আপলোড হয়। ফলে ‘ভুতুড়ে ভোটার’ বলে কিছু নেই, ভ্রান্ত অনুমানের ভিত্তিতে তা বলা হচ্ছে।

এথেকে এটা প্রমাণিত যে কিছু একটা হয়েছে । নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে অনেক আগেই প্রশ্ন তুলেছে সব বিরোধী দলই এবার ইভিএমের গ্রহণযোগ্যতা প্রশ্ন ওঠে গেল । তাহলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যে ইভিএম করাচুপির কথা বলেছিলেন তা সত্যি হতে চলেছে ? এই প্রশ্নের উত্তর মিলতে পারে আগামী দিনে ।

 


শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সম্পর্কিত নিবন্ধ

Leave a Comment