পঞ্চায়েত সংবাদ প্রচ্ছদ 

ভোটারদের নিরাপত্তা দিতে এবং সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ নির্বাচন কমিশন

শেয়ার করুন
  • 2
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

নিজস্ব প্রতিনিধিঃহাইকো্র্টের প্রধান বিচারপতির কাছে দেওয়া নির্বাচন কমিশন ও রাজ্য সরকারের প্রতিশ্রুতি শেষ পর্যন্ত রক্ষা করতে পারল না, সরকার ও নির্বাচন কমিশন। নির্বাচন কমিশন তাঁর সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনে পুরোপুরি ব্যর্থ বলে বুদ্ধিজীবীরাও অভিমত দিয়েছেন। অনেকে আবার সাংবিধানিক সংস্থার প্রধান হয়েও নির্বাচনের অশান্তি রুখতে না পারা এবং ১৮ জনের মৃত্যু,সেই সঙ্গে দুই ভোটারের ভোট কেন্দ্রের এলাকার মধ্যে খুন হওয়া দায় মাথায় নিয়ে কমিশনারের পদত্যাগ করা উচিত মন্তব্য করেছেন। তাঁদের অভিমত,যে সাংবিধানিক সংস্থা নাগরিকের জান-মালের নিরাপত্তা দিতে পারে না তার পদে থাকার অধিকার নেই। প্রধান বিচারপতিকে হলফনামা দিয়ে পঞ্চায়েত নির্বাচনে অশান্তি ও রক্তপাত বন্ধ করা গেল না। এমনকি ভোট শেষ হওয়ার পরও নির্বাচন কমিশনার নির্রাবাচনে হিংসা নিয়ে কোনো মন্তব্য করতে চাননি। তিনি সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে জানিয়েছেন,যা বলার ১৫ তারিখে বলবেন।তা নিয়েও সাধারণ মানুষের মনে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। পঞ্চায়েত নির্বাচনকে কেন্দ্র করে    জেলায় জেলায় শাসক থেকে বিরোধীদের মৃত্যু মিছিল দেখা গেল। কোথায় গনপিটুনি দিয়ে খুন কোথাও বা জীবন্ত জ্বালিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটল। এই খবর লেখা পর্যন্ত রাজ্যে মোট ১৮ জন মারা যাওয়ার খবর গিয়েছে। এছাড়া জখম হয়েছে ১০০ জনেরও বেশি। পঞ্চায়েত নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এই ধরনের হিংসার ফলে নির্বাচন কমিশনের সাংবিধানিক দায়িত্ব নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। সেই সঙ্গে নির্বাচন কমিশন ভোটারদের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ বলেই  ওয়াকিবহাল মহল মনে করছে।

উত্তপ্ত পরিবেশের মধ্যেই এদিন রাজ্যজুড়ে শুরু হয় পঞ্চায়েত নির্বাচন। দিন গড়াতে না গড়াতেই চারিদিকেই অশান্তির খবর আসতে থাকে। দিনের প্রথম জোড়া মৃত্যুর খবরটি আসে কাকদ্বীপের নামখানা থেকে। সেখানে সিপিএম দম্পতি দেবু দাস ও ঊষা দাসকে পুড়িয়ে মারার অভিযোগ উঠে শাসকদলের বিরুদ্ধে। বুদাখালি গ্রাম পঞ্চায়েতে তাদের বাড়িতে শাসকদল আশ্রীত দুষ্কৃতীরা আগুন লাগিয়ে দেয় বলে অভিযোগ। ঘটনাকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য ছড়ায় নামখানা এলাকায়।

নন্দীগ্রামের হাঁসচড়া গ্রামপঞ্চায়েতে দুই সিপিএম কর্মীকে গুলি করে খুন করার অভিযোগ উঠেছে শাসক দলের বিরুদ্ধে। মৃতদের নাম অপু মান্না ও যোগেশ্বর ঘোষ। সূত্রে খবর, নন্দীগ্রামে হাসচড়া গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় বামেদের প্রার্থী হয়েছিলেন অপু ও যোগেশ্বর। নির্বাচন শুরু হতেই ভোট লুটের চেষ্টা করছিল একদল দুষ্কৃতী। অপু ও যোগেশ্বর ভোট লুটে বাধা দেয়। তখনই তাদের উদ্দেশ্য করে গুলি ছুড়তে থাকে দুষ্কৃতীরা। তাদের গুলিতে প্রাণ হারায় ওই দুই বাম প্রার্থী।

শান্তিপুরে বুথ দখলের চেষ্টা করতে গিয়ে গণপিটুনিতে মারা গিয়েছে এক এমএ পড়ুয়া। মৃতের নাম সঞ্জীত প্রামাণিক। স্থানীয়দের অভিযোগ, ভোট প্রক্রিয়া শুরু হতেই একদল দুষ্কৃতী নিয়ে বুথ দখল করার চেষ্টা করে সনজিৎ। স্থানীয় মানুষ  বুথ দখলে বাধা দেয়। সেই সঙ্গে তাদের ঘিরে ফেলে। দলের কয়েকজন পালিয়ে যেতে সমর্থ হলেও ধরা পড়ে যায় সঞ্জীত সহ তিনজন। এরপরই তাদের বেধড়ক মারধর করে স্থানীয় বাসিন্দারা। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু সঞ্জিতের। ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে সঞ্জিতের পরিবারে।

মৃত দুই সিপিএম প্রার্থী অপু মান্না ও যোগেশ্বর ঘোষ

 

এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত মোট পাঁচজন সিপিএম কর্মী মারা যাওয়া খবর পাওয়া গিয়েছে। এছাড়া ভোলানাথ দফাদার সহ মোট  ৩ জন তৃণমূল কর্মী ও মারা গিয়েছে। সূত্রের খবর, ভোলানাথের বাড়ি নদীয়ার নাকাশিপাড়ায়। সেখানে বামেদের ছোড়া বোমার আঘাতে মৃত্যু হয়েছে ভোলানাথের। কুুুুলতলিতে মারা গিয়েছে এক তৃণমূল কর্মী। ঘটনায় অভিযোগের তির এসইউসিআইয়ের দিকে। বেতাইয়ে শাসকদলের আরও এক কর্মী মারা গিয়েছে। মুর্শিদাবাদের  বেলডাঙায় এক বিজেপি কর্মীর মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে। মৃতের নাম  তপন মন্ডল। বোমা বাঁধতে সে মারা গিয়েছে বলে জানা গিয়েছে। উত্তর ২৪ পরগনার আমডাঙায় এক  সিপিএম কর্মীর মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে। এছাড়া মুর্শিদাবাদের নওদায় শাসক দল আশ্রিত দুষ্কৃতীদের গুলিতে এক নির্দল কর্মীর মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এছাড়া উত্তর দিনাজপুরে ডিউটি চলাকালীন রাজ্য পুলিশের এসআই মারা গিয়েছে। মৃৃতের নাম নিতিশ দাস।

এছাড়া নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজ্যের একাধিক জায়গায় হিংসার ঘটনা ঘটেছে। হাওড়ার উলুবেড়িয়ার পালোড়া, সাঁকরাইলের কন্যামুনি বুথ, পশ্চিম মেদিনীপুরের কেশপুরের বিকলচক গ্রামে ব্যাপক বোমাবাজির ঘটনা ঘটেছে। ঘটনায় জখম হয়েছে সেক শবর আলি নামে এক তৃণমূল কর্মী। ঘটনাকে কেন্দ্র করে আতঙ্ক ছড়ায়। বিকলচক বুথে প্রায় ঘন্টা দুয়েক ভোটগ্রহণ বন্ধ থাকে। পরে অবশ্য ফের ভোটগ্রহণ শুরু হয়। এছাড়া কেশপুরের একাধিক জায়গায় ভোটারদের উপরও হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ ওঠে।


শেয়ার করুন
  • 2
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সম্পর্কিত নিবন্ধ

Leave a Comment