দেশ 

দলীয় সংগঠনে একচ্ছত্র আধিপত্য নিয়েই সভাপতি পদে থাকবেন রাহুল ; আজ বৈঠক দলের প্রবীণ নেতাদের সঙ্গে

শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

বাংলার জনরব ডেস্ক : দেশের প্রতিটি কংগ্রেস কর্মীর আবেদনকে মেনে শেষ পর্যন্ত কংগ্রেস সভাপতি পদে থেকে যেতে রাজি হয়েছেন রাহুল গান্ধী বলে বিশেষ সূত্রে জানা গেছে । কারণ গতকাল পন্ডিত জওহরলাল নেহেরু মৃত্যু দিনে তঁর সঙ্গে বৈঠক করেন আহমেদ প্যাটেল ও কেসি বেনুগোপাল । কিন্ত তিনি সেই বৈঠকে স্পষ্ট করেন যে তিনি আর সভাপতি পদে থাকতে চান না । অন্য কাউকে বিকল্প বেছে নেওয়া হোক । আর এতেই কংগ্রেস দলের মধ্যে দেশজুড়ে পদত্যাগের হিড়িক দেখা যায় ।যদিও আহমেদ পটেল পরে টুইট করে জানান, ‘‘রুটিন প্রশাসনিক কাজের জন্য আমি কংগ্রেস সভাপতির সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলাম। অন্য কোনও জল্পনা ভিত্তিহীন।’’ কংগ্রেসের মুখপাত্র রণদীপ সিংহ সুরজেওয়ালাও বিবৃতি দিয়ে বলেন, ‘‘ওয়ার্কিং কমিটি রাহুল গাঁধীকেই সংগঠনের আমূল পরিবর্তনের দায়িত্ব দিয়েছে।’’ অর্থাৎ, রাহুল গাঁধীই সভাপতি থাকছেন।

কিন্ত কংগ্রেসের পক্ষ থেকে যাই বলা হোক বিষয়টি এতটা সহজ ছিল না । রাহুল কংগ্রেস সভাপতি পদে থাকবেন না , এটা তাঁর অনড় সিদ্ধান্ত ছিল । এমনকি আহমেদ প্যাটেল ও বেণুগোপাল ছাড়া আর কারও সঙ্গে তিনি দেখা করতে চাননি ।অশোক গহলৌত দেখা করতে চাইলেও তাঁকে ফিরিয়ে দিয়েছেন। পরে আহমেদ পটেল প্রিয়ঙ্কার সঙ্গে কথা বলেন। রাহুলের সঙ্গেও কথা হয় প্রিয়ঙ্কার। রাতের দিকে দলীয় সূত্রে জানা যায়, রাহুল সম্ভবত কিছু শর্ত দিতে চলেছেন। দলের সভাপতির দায়িত্ব সামলাতে হলে সংগঠনের নিয়ন্ত্রণ এবং দলীয় কার্যশৈলী বদল করার ক্ষমতা তাঁর হাতে থাকতে হবে। এই শর্ত মানলে তিনি হয়তো কাজ চালিয়ে যাবেন। আহমেদ প্যাটেল রাতে বলেন, ‘‘নো চেঞ্জ, অল ইজ ওয়েল।’’

জুন মাসের গোড়ায় রাহুল নতুন সাংসদদের নিয়ে বৈঠক করতে পারেন। সংসদে দলের নেতা হতেও তিনি রাজি। এ দিন দুপুরে নেতাদের বলেছেন, ‘‘আমি ‘ভ্যানিশ’ হয়ে যাচ্ছি না। দলে থেকেই লড়াই জারি রাখব। তবে গাঁধী পরিবারের বাইরে থেকে কাউকে সভাপতি করুন। আমার বোনকে এর মধ্যে টানবেন না।’’

রাহুল এত দিন রাজ্যে-রাজ্যে প্রবীণ নেতাদের উপর ভরসা রেখে এগিয়েছেন। তাঁদের দাবি মেনে নিয়েছেন। সনিয়াও প্রবীণদের রাখতে চেয়েছিলেন। অথচ তাঁদের ব্যর্থতার কারণেই কংগ্রেসের আজ এই হাল। ওয়ার্কিং কমিটি রাহুলকেই দলের খোলনলচে বদলানোর দায়িত্ব দিয়েছে। সেটা তখনই সম্ভব হবে, যখন তাবড় নেতারা পদ ছেড়ে দেবেন। তখনই মাটির সঙ্গে যোগ থাকা নেতাদের সামনে এনে দল ঢেলে সাজানো যাবে। তাই সূত্রের খবর, কৌশলগত ভাবেই নিজের ইস্তফায় অনড় থেকে বাকিদের উপরে চাপ বাড়াচ্ছেন রাহুল।

উত্তরপ্রদেশের সভাপতি রাজ বব্বর, মহারাষ্ট্রের অশোক চহ্বাণ, প্রদেশ কমিটি থেকে কমল নাথের পর ওড়িশার নিরঞ্জন পট্টনায়েক, কর্নাটকের এইচ কে পাটিল, অসমের রিপুন বোরা, ঝাড়খণ্ডের অজয় কুমার, পঞ্জাবের সুনীল জাখররা ইস্তফা পেশ করেছেন।

 


শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সম্পর্কিত নিবন্ধ

Leave a Comment