প্রচ্ছদ 

আরাবুল,রেজ্জাক নয়,মমতার প্রতিই আস্থা,ভাঙড় এখন দ্বিতীয় নন্দীগ্রাম হতে চলেছে!

শেয়ার করুন
  • 8
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

বুলবুল চৌধুরিঃ দক্ষিণ ২৪ পরগণার ভাঙড়ের কয়েকটি গ্রাম যে শাসক তৃণমূল দলের কাছে অস্বস্তির কারণ  হয়ে উঠবে তা হয়তো দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় উপলব্ধি করতে পারেননি। অথচ এই আন্দোলনকে মুখ্যমন্ত্রী সরাসরি হস্তক্ষেপ করে থামিয়ে দিতে পারতেন।তাঁর সেই মানবিক মুখ ছিল। কিন্ত যে কোন কারনেই হােক তিনি বিষয়টিতে সরাসরি হস্তক্ষেপ করেননি। বরংদলের জেলা সভাপতি শোভন চট্টোপাধ্যায় ,আরাবুল ইসলাম,রেজ্জাক মোল্লাসহ দলের জেলা নেতাদের প্রতিই আস্থা রেখেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আসলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মধ্যে যে মানবিক মুখ আছে তা তার দলের অন্য কোন নেতার মধ্যে যে নেই এটাই তিনি বুঝতে পারছেন না।রাজ্যের মানুষ তাঁর প্রতি যে বিশ্বাস ও আস্থা দেখান তা যে দলের অন্য কোনো নেতার প্রতি দেখায় না, সেটা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে উপলদ্ধি করতে হবে।তাই ভাঙর আন্দোলনকে তিনি আতুরেই শেষ করতে পারতেন তা হল না। আজ সেই আন্দোলন যে সারা রাজ্যে ছড়িয়ে পড়তে চলেছে তা এখন থেকেই বলা দেওয়া যায়।

কোন দেশই গণ-আন্দোলনকে উপেক্ষা করতে পারে না।নন্দীগ্রামের কৃষক  আন্দোলন তার প্রমাণ। বাম সরকার ভেবে ছিল,দমননীতি প্রয়োগ করে নন্দীগ্রাম আন্দোলনকে দমিয়ে দেবেন। সেদিন জমিয়তে উলামা হিন্দের নন্দীগ্রাম শাখার নেতৃত্বে যে গণ-আন্দোলন হয়েছিল তা ইতিহাস হয়ে আছে। স্বাধীনতার পর জমির লড়াই করতে গিয়ে এতগুলি দলিত-মুসলিম খুন খুব কমই ঘটেছে।কুখ্যাত ১৪ মার্চকে আজও নন্দীগ্রামের মানুষ স্মরণ করে। এটা অস্বীকার করা যাবে না যে, এই গণ-আন্দোলনকেই সম্বল করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর রাজনৈতিক প্রাসঙ্গিকতা ফিরে পেয়েছিলেন। সেদিন তিনি রাজ্যের সাধারণ মুসলমানদের সিংহভাগ সমর্থন আদায় করতে পেরেছিলেন,নন্দীগ্রামের মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে। বামেদের মূল শক্তি ছিল মুসলিম সেই ভোট দখল করে কার্যত ২০১১-র দু বছর আগেই বাংলার ক্ষমতা দখল করেই ফেলেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্ত দুঃখের বিষয় নন্দীগ্রামের মানুষের এই আন্দোলনের কথা ঠাঁই পায়নি ইতিহাসে ,যদিও সিঙ্গুর আন্দোলনের ইতিহাস অষ্টম শ্রেণির পাঠ্যপুস্তকে ঠাঁই পেয়েছে।

আর দক্ষিণ ২৪ পরগণার ভাঙড়ের কয়েকটি গ্রামের মানুষ কেন্দ্রীয় সরকারের প্রকল্প পাওয়ার গ্রীড করতে না দেওয়ার দাবিতে কয়েক বছর ধরে আন্দোলন করছে। মুসলিমদের এই আন্দোলনকে কোনভাবেই সরকার গুরুত্ব দেয়নি। বরং সব সময় আরাবুল-রেজ্জাকদের উপর দায়িত্ব চাপিয়ে দিয়ে প্রশাসন দায় এড়িয়েছে। আরাবুলরা তো আলোচনায় বিশ্বাস করে না,তারা জোর করে এই আন্দোলন থামিয়ে দিতে চেয়েছে। ফলে দিন দিন আন্দোলনের শক্তি আরও বৃদ্ধি পেয়েছে।অথচ মুখ্যমন্ত্রী পারতেন,এক মিনিটেই এই আন্দোলন থামিয়ে দিতে। তিনি নিজে যদি একবার আন্দোলনকারীদের ডেকে আলোচনায় বসতেন সমস্যার সমাধান করতে বেশি সময় লাগত না।কিন্ত দেখা যাচ্ছে,কয়েক জন মানুষের আত্মবলিদানের পরও সরকারের টনক নড়েনি। সরকারের এই আত্মভরিতা আগামীদিনে আর এক নন্দীগ্রামের জন্ম দিল বললে ভুল বলা হয় না। বর্ষীয়ান এক শিক্ষাবিদ এপ্রসঙ্গে বললেন,মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যাকে সামান্য ফুসকুড়ি বলে মনে করছেন তা একদিন টিউমার হয়ে যাবে,তা থেকে ক্যানসারও হয়ে যেতে পারে। এখনও সময় আছে মুখ্যমন্ত্রী সরাসরি আন্দোলনকারীদের সঙ্গে  কথা বলে তাদের দাবির প্রতি সুবিচার করলে এই সমস্যার হাল হবে। তা না হলে এই আন্দোলনের প্রভাব রাজ্যের সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর উপর পড়ার সমূহ সম্ভাবনা আছে।


শেয়ার করুন
  • 8
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সম্পর্কিত নিবন্ধ

Leave a Comment