কলকাতা 

বিকাশের হাত ধরেই কী যাদবপুরে লড়াইয়ে ফিরছে সিপিএম !

শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

বুলবুল চৌধুরি : ২০০৪ সালে যাদবপুর থেকে সুজন চক্রবর্তী জিতে সংসদে গিয়েছিলেন । তারপর ২০০৯ ও ২০১৪ পর পর দুটি লোকসভা নির্বাচনেই তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থীরা জয়লাভ করেন । ২০০৯-এ জেতেন বিশিষ্ট গায়ক কবীর সুমন ও ২০১৪ তে জেতেন অধ্যাপক ড. সুগত বসু । আবার ২০১৬ বিধানসভা নির্বাচনে যাদবপুর বিধানসভা থেকে জয়লাভ করেন সিপিএম প্রার্থী সুজন চক্রবর্তী । তিনি প্রায় ১৪ হাজারের বেশি ভোটে তৃণমূল প্রার্থী মনীষ গুপ্তকে পরাস্ত করেছিলেন । আবার ২০১১ বিধানসভা নির্বাচনে বামপ্রার্থী ও তংকালীন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যকে মনীষ গুপ্ত হারিয়েছিলেন ।

তাই যাদবপুরের সাধারন মানুষের মধ্যে রাজনৈতিক সচেতনা নিয়ে কোনো প্রশ্ন নেই । কিন্ত তৃণমূল নেত্রী এটা ভালো মতই জানেন বলেই তিনি এই কেন্দ্রে প্রার্থী পরিবর্তন করেছেন । ২০০৯-এ যিনি ছিলেন তিনি হলেন কবীর সুমন । তিনি আর দ্বিতীয় বার দাঁড়াননি । আবার এবারের বিদায়ী সাংসদ ড. সুগত বসুও দাঁড়াননি । বিষয়টি পরিস্কার তৃণমূল নেত্রী সময় সুযোগ বুঝে প্রার্থী নির্বাচন করে থাকেন । তাই এবার তিনি করেছেন । এবার তিনি প্রার্থী করেছেন সিনেমা জগতের জনপ্রিয় নায়িকা মিমি চক্রবর্তীকে । আর এই প্রার্থীই নিয়ে যাদবপুরের মানুষের মনে ক্ষোভ জন্মেছে । তাঁদের বক্তব্য হল , যাদবপুর লোকসভা কেন্দ্রের জন্ম হওয়ার পর থেকে এখনও পর্যন্ত যাঁরা সাংসদ হয়েছেন তাঁদের প্রত্যেকে রাজনৈতিক সচেতন ব্যক্তি ।

ইন্দ্রজিৎ গুপ্ত , সোমনাথ চট্টোপাধ্যায় , মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় , মালিনী ভট্টাচার্য সহ কৃষ্ণা বসু রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব না হলেও রাজনৈতিক পরিবার থেকে ওঠে আসা ব্যক্তি । কবীর সুমন মূলত বুদ্ধিজীবী হলেও তিনি রাজনৈতিক ও সামাজিক ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা গ্রহণ করেছেন । ড. সুগত বসু নেতাজির পরিবারের সন্তান । সেই অর্থে তাঁর রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তোলার অবকাশ নেই ।

আর মিমি চক্রবর্তী টালিগঞ্জের একজন নায়িকা মাত্র । সেভাবে সুচিত্রা সেন , সুপ্রিয়া বসু , মাধবী চক্রবর্তীর মত জনপ্রিয় অভিনেত্রী নন । তিনি ইদানিং পাদ প্রদীপের আলোয় এসেছেন তাঁর স্বামীর সঙ্গে বিবাহ-বিচ্ছেদ মামলাকে কেন্দ্র করে । তাছাড়া রাজনীতিতে দূরঅস্ত, সামাজিক ক্ষেত্রেও এই অভিনেত্রীর কোনো অবদান আছে বলে আমাদের জানা নেই । কোন যুক্তিতে শাসক দল তাঁকে প্রার্থী করেছে তা এখনও বোঝা যাচ্ছে না । বিশেষ করে যাদবপুরের মত গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে যেখানে রাজনৈতিক ভাবে শিক্ষিত লোকেদের বাস ।

আর এই প্রার্থী নির্বাচনকে কেন্দ্র করেই সাধারন মানুষের মনের মধ্যে এই ক্ষোভকে কাজে লাগাতে চাইছেন সিপিএম প্রার্থী বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্য । তিনি দিনরাত করে সমগ্র যাদবপুর ঘুরে বেড়াচ্ছেন । সাড়াও মিলছে । এমনকি তৃণমূলের মূল ভোট-ব্যাঙ্ক মুসলিমদের মধ্যে বিকাশ ভাল সাড়া পাচ্ছেন । আসলে সিপিএমের প্রার্থী বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্য শুধু রাজনীতিই করেন না , সেই সঙ্গে সামাজিক আন্দোলনের সঙ্গেও যুক্ত আছেন । নিজে  একজন ভালো আইনজীবী হিসেবে স্কুল সার্ভিস কমিশনের বঞ্চিতদের পক্ষে হোক কিংবা রাজকুমার দত্ত পঞ্চায়েত নির্বাচনে ভোট করাতে গিয়ে মারা গিয়েছিল , সেই মৃত্যুর সঠিক তদন্তে দাবিতেও তিনি আদালতে মামলা লড়েছেন । সারদা মামলার সিবিআই তদন্তে নেপথ্যে বিকাশবাবুর অবদানকে কেউ অস্বীকার করতে পারবে না । এমনকি যেসব শিক্ষক রাজকুমার দত্তের মৃত্যু রহস্যের তদন্তের দাবিতে রায়গঞ্জে বিক্ষোভ দেখাতে গিয়েছিল তাদের মধ্যে বেশ কয়েকজনকে পুলিশ গ্রেফতার করে । সেই সব গ্রেফতার কৃত শিক্ষকদের জামিনের দাবিতে তাদের পক্ষে সওয়াল করেছিলেন বিকাশবাবু । সুতরাং বিকাশবাবু রাজনৈতিক আন্দোলন ও সামাজিক আন্দোলনের দুটোর সুফল যে তিনি পাবেন তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না ।

সব মিলিয়ে শাসক দলের প্রার্থী মিমি চক্রবর্তীর চেয়ে বেশ কয়েক কদম এগিয়ে রয়েছেন বিকাশবাবু । তিনি পরিশ্রম করছেন , তাঁর কর্মীরাও পরিশ্রম করছেন । ফল পাবেন কিনা তা জানা যাবে ২৩ মে । তবে ২০০৪-এর পর আবার যাদবপুরে যে বামেদের পক্ষেই হাওয়া রয়েছে এ নিয়ে রাজনৈতিক মহলের কোনো দ্বিমত নেই ।


শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সম্পর্কিত নিবন্ধ

Leave a Comment