কলকাতা 

বাংলা-ওড়িশার দিকে ধেয়ে আসছে সুপার সাইক্লোন ‘ফনি‘ ; বাতিল হতে পারে ৭৪টি এক্সপ্রেস সহ লোকাল ট্রেন ; বিপর্যয় মোকাবিলায় নবান্নে জরুরি বৈঠকে একগুচ্ছ নির্দেশিকা জারি

শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

বাংলার জনরব ডেস্ক : বাংলা উপকূলের দিকে ধেয়ে আসছে সাইক্লোন ফনি। ইতিমধ্যে ওডিশাতে হাই-অ্যালার্ট জারি করা হয়েছে। ৪৮ ঘন্টার মধ্যে পর্যটকদের রাজ্য ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের তরফেও তোড়জোর তুঙ্গে। শুধু ওডিশাই নয়, সাইক্লোন ফেনীর প্রভাব পড়বে বাংলাতেও। বিশেষ করে কলকাতার উপর থেকে ৮০ থেকে ১০০ কিমি বেগে ঝড়ো হাওয়া বয়ে যাওয়ার পূর্বাভাস দিয়েছে। এই অবস্থায় বাংলায় বাতিল করা হল প্রধানমন্ত্রী মোদীর সভা। আগামী শনিবার অর্থাৎ ৫ তারিখ হলদিয়াতে মোদীর সভা ছিল।

এদিকেরেল দফতর আজ বুধবার বিশেষ ট্রেনে বাংলার পর্যটকদের ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করছে৷ তবে আগামীকাল অর্থাৎ বৃহস্পতিবার থেকেই পূর্ব উপকূল বরাবর বেশ কিছু ট্রেন বাতিল করা হবে৷ এমনটাই রেল সূত্রে খবর৷ আপাতকালীন পরিস্থিতির জন্য তৈরি থাকছে বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী।

বৃহস্পতিবার রাতেই ওড়িশা উপকূলে আছড়ে পড়তে পারে ওই ফনী৷ ফলে ফনীর জন্য ট্রেনের রুট পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিচ্ছে দক্ষিণ-পূর্ব রেল৷ এছাড়া বেশ কিছু ট্রেন বাতিল করা হতে পারে বলে জানিয়েছেন পূর্ব রেলের এক আধিকারিক। এদিকে জানা গেছে ৭৪টি এক্সপ্রেস ট্রেন বাতিল করার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

নির্দিস্ট সময়ে যদি ফনী আছড়ে পড়ে তাহলে ওই সময় ওড়িশার ভদ্রক থেকে বিশাখাপত্তনম পর্যন্ত কোনও যাত্রীবাহী ট্রেন চালাবে না রেল৷ যদি তাই হয় আগামী দুই-তিন দিন পুরীতে কোনও ট্রেন ঢুকবে না৷ যদিও ট্রেন চালানোর বিষয় নিয়ে পূর্ব উপকূল বাহিনীর সঙ্গে যোগেযোগ রাখছে রেল দফতর।

আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে,আজ ১ মে পর্যন্ত ঘূর্ণিঝড় ফণী তামিলনাড়ু-অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলের দিকে অগ্রসর হলেও, তার পরে উত্তর-উত্তরপূর্ব দিকে ঘুরবে। অর্থাৎ তার অভিমুখ পুরোপুরি চলে আসতে পারে পশ্চিমবঙ্গের দিকে৷ যা রাজ্যের জন্য অশনি সংকেতের কারণ হতে পারে।গত সপ্তাহের মাঝামাঝি থেকেই আবহাওয়া বিশেষজ্ঞদের ধন্দে রেখে দিয়েছিল বঙ্গোপসাগরে তৈরি হওয়া এই ঘূর্ণিঝড়। প্রথমে মনে করা হচ্ছিল, এটি তামিলনাড়ু উপকূলে আছড়ে পড়বে।

ঘুর্নিঝড়ের প্রভাব যথেষ্ট পড়বে পশ্চিমবঙ্গেও। বিশেষ করে কলকাতার উপর দিয়ে বয়ে যাবে প্রবল ঝড়। সাবধান থাকার জন্যে এই মর্মে ইতিমধ্যে নোটিশ জারি করেছে দিল্লির মৌসম ভবন। মৌসম ভবনের তরফে দেওয়া নোটিশে কলকাতার জন্যে হলুদ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। হলুদ নোটিশে কার্যত সাবধান করা হয়েছে কলকাতাবাসীকে।

বলা হয়েছে, এই ঘুর্নিঝড়ের প্রভাবে কলকাতায় প্রবল বেগে ঝড় বইতে পারে। ঝড়ের গতিবেগ হতে পারে ৮০ থেকে ১০০ কিলোমিটার। ফণির প্রভাবে শুক্রবার ৩ তারিখ ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টি হতে পারে পূর্ব মেদিনীপুর, পশ্চিম মেদিনীপুর ও ঝাড়গ্রামে। ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে কলকাতা, উত্তর ২৪ পরগনা, দক্ষিণ ২৪ পরগনা, হাওড়া ও হুগলিতেও। ফলে বিশেষ সতর্কতা নেওয়ার জন্যে বলেছে মৌসম ভবন।

তাই তড়িঘড়ি নবান্নে হল জরুরি বৈঠক৷ ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে একগুচ্ছ নির্দেশিকা জারি করেছে নবান্ন৷ তাছাড়া মত্‍‌মৎস্যজীবীদের সমুদ্রে যাওয়ার ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে৷ পর্যটকদের ফিরিয়ে আনার জন্য বিশেষ ট্রেনের ব্যবস্থা করা হয়েছে৷

নবান্ন সূত্রে খবর, আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস পাওয়ার পরই একটি উচ্চ পর্যায়ে জরুরি বৈঠক করা হয়েছে৷ ঘূর্ণিঝড় ফণীর মোকাবিলায় তত্‍‌পর রাজ্য সরকার৷ ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে একগুচ্ছ নির্দেশিকা জারি করেছে নবান্ন৷ নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, ২মে অর্থাৎ আগামীকাল থেকে সমুদ্রে যেতে পারবে না মত্‍‌স্যজীবীরা৷ যাঁরা ইতিমধ্যেই মাঝ সমুদ্রে রয়েছেন, তাঁদের আজ অর্থাত্‍‌ বুধবার বিকেলের মধ্যে ফেরার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে৷ ফণীর ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে দিঘার সৈকতে চলছে পুলিশের মাইকিং৷ ফণী নিয়ে পর্যটকদের সতর্ক করছে প্রশাসন৷

 


শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সম্পর্কিত নিবন্ধ

Leave a Comment