কলকাতা 

“বিজেপিতে উনি ( অনুব্রত মন্ডল) আসবেন নাকি আমি আসব তৃণমূলে, সেটা সময় বলবে। উনি( অনুব্রত মন্ডল ) কি আগে থেকে ইট পেতে রাখছেন না বিজেপিতে আসার জন্য!” : অনুপম হাজরা

শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

বাংলার জনরব ডেস্ক : ভোট দিয়ে নিতান্তই সৌজন্যের কারনেই  মাতৃহারা বীরভূম জেলা তৃণমূলের সভাপতি অনুব্রত মন্ডলের সঙ্গে সোমবার বোলপুরে তৃণমূল কার্য্যালয়ে গিয়ে দেখা করেছিলেন অনুপম হাজরা। তা নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে তোলপাড় শুরু হয়ে যায় । অনুপম হাজরা বোলপুরের বিদায়ী সাংসদ ঠিকই কিন্ত তিনি তো আবার যাদবপুর কেন্দ্রের বিজেপির প্রার্থীও । তাই সৌজন্য হলেও এখন কী বিরোধী দলের পার্টি অফিসে গিয়ে দেখা করাটা ঠিক হয়েছে । এই সব প্রশ্ন ওঠার পরেই

।  বিজেপির অন্দরে চরম জল ঘোলা হতে শুরু করে। তাই মঙ্গলবার মুরলীধর সেন লেনে সাংবাদিক বৈঠকে বসেন মুকুল রায় ও অনুপম হাজরা।

সাংবাদিক বৈঠকে এদিন অনুপমবাবু বলেন, “আমার দুটো বাড়ি পরে থাকেন অনুব্রত। দলের বাইরে সে আমার প্রতিবেশী। কেষ্টকাকু। প্রতিবেশীর বাড়িতে কারও মৃত্যু হলে আমরা দেখতে যাই। ভদ্রতার খাতিরে দেখতে যাওটাই বাংলার রীতি। ফোন করে আমাকে বলেছিলেন একবার পারলে আসিস। যখন ছোটো ছিলাম, তাঁর কোলে মানুষ হয়েছি। জ্যেঠিমা বলে ডাকতাম (অনুব্রতর মাকে)। দেখা করাটা নিতান্তই সৌজন্য। এর বাইরে কিছু নয়”।

তিনি এই সৌজন্যে বিষয়টিকে নিয়ে যেভাবে রাজনীতি করা হচ্ছে তা নিয়ে ক্ষোভ উগরে দেন এদিন । তিনি বলেন, “তৃণমূল থেকে বহিষ্কৃত হয়েছিলাম অনুব্রত মণ্ডলের কারণেই। তাঁর জন্যই তৃণমূলে কাজ করতে পারতাম না। প্রথমে বাড়িতে যেতে বলেছিলেন। বাড়িতে না থাকায় তৃণমূলের কার্য্যালয়ে যাই। ভিতরে মিডিয়াকে আগেভাগেই বলে রাখা হয়েছিল। মৃত্যু নিয়ে রাজনীতি এতটা নোংরা হতে পারে জানা ছিল না। এভাবে চক্রান্ত করা হবে, তা জানা ছিল না”।

তৃণমূলের রাজ্যসভার টিকিট প্রসঙ্গেও সরাসরি জবাব দিয়েছেন অনুপম হাজরা। তাঁর দাবি, “তৃণমূলে যখন ছিলাম, ঝগড়া ছিল অনুব্রতর সঙ্গেই। এমন পরিস্থিতি তৈরি করেছিল যে দল ছাড়তে বাধ্য হই। তাছাড়া, যে আজ পর্যন্ত কাউন্সিলর হয়নি, বিধায়ক হয়নি, তাঁর মুখে সংসদের টিকিট পাইয়ে দেওয়ার কথার কোনও গুরুত্ব নেই”। অনুপম যখন এ কথা বলছেন, তখনই পাশ থেকে মুকুল রায় বলেন, “কারও বাড়িতে যদি কেউ দেখা করতে যায়, তখন মিডিয়াকে ডাকা মানেই রাজনীতির ব্যাপার থাকে। এটা রাজনৈতিক চক্রান্ত। অনুপম ভাল ছেলে। রাজনৈতিক চক্রান্তের শিকার করা হচ্ছে। বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ, সর্বভারতীয় সম্পাদক রাহুল সিনহারা বলতে শুরু করেছিলেন অনুপম দলীয় কার্য্যালয়ে গিয়ে অনুব্রত মন্ডলের সঙ্গে দেখা না করলেই পারত। এ প্রসঙ্গে অনুপমের বক্তব্য, ইতিমধ্যে নেতৃত্বের সঙ্গে কথা হয়েছে।

সাংবাদিক বৈঠকের শেষ লগ্নে অনুব্রত মণ্ডলের বিজেপিতে যোগদান সম্পর্কে বিস্ফোরক মন্তব্য করেন অনুপম। তিনি বলেন, ” উনি আমায় কানে কানে কী বলেছেন তা কি আপনারা শুনেছেন”? তাঁর দাবি, “বিজেপিতে উনি আসবেন নাকি আমি আসব তৃণমূলে, সেটা সময় বলবে। উনি কি আগে থেকে ইট পেতে রাখছেন না বিজেপিতে আসার জন্য! একদিনের কঠিন সুর কেন নরম হতে শুরু করলো, কেন ফোন করে বললেন, একবার আয়। ভূতের মুখে রামনাম। যখন দলে ছিলাম, তখন তো বলেননি। এত আবেগপ্রবণ কেন”?

 

 


শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সম্পর্কিত নিবন্ধ

Leave a Comment