কলকাতা 

বেথুনে একাদশ শ্রেণিতে ফেল করা ছাত্রীদের পাশ করানোর দাবিতে আন্দোলনে অভিভাবকরা ; অনড় স্কুল কর্তৃপক্ষ ; সংসদে দরবার ছাত্রীদের

শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

পরীক্ষায় পাশ করিয়ে দেওয়ার দাবি তুলে সোমবার বেথুন কলেজিয়েট স্কুলে ধর্নায় বসল একদল ছাত্রী। এই স্কুলের একাদশ শ্রেণি থেকে দ্বাদশ শ্রেণিতে উঠতে ১১৯ জন পড়ুয়ার মধ্যে অকৃতকার্য হয়েছে মোট ১৮ জন। বিজ্ঞান এবং কলা বিভাগের অকৃতকার্য হওয়া ওই সব পড়ুয়া এবং তাদের অভিভাবকেরা এ দিন স্কুলে গিয়ে তাদের পাশ করিয়ে দেওয়ার দাবি করেন।

অভিভাবকদের দাবি, উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা সংসদের নিয়মের বাইরে গিয়ে স্কুল কর্তৃপক্ষ এই পড়ুয়াদের ফেল করিয়েছেন। এই পডুয়াদের মধ্যে অনেকে থিয়োরিটিক্যাল এবং প্রোজেক্ট বা প্র্যাকটিক্যালে আলাদা ভাবে পাশ না করলেও দু’টি মিলিয়ে পাশ করেছে। সব মিলিয়ে এদের পাশ নম্বর রয়েছে। সংসদের নিয়ম অনুযায়ী, দ্বাদশ শ্রেণিতে আলাদা ভাবে থিয়োরি এবং প্র্যাকটিক্যালে পাশ করতে হয়।

অভিভাবকদের দাবি, একাদশ শ্রেণির ক্ষেত্রে এই নিয়ম খাটে না। কিন্তু তাও তাদের ফেল করানো হয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক, অকৃতকার্য এক পড়ুয়ার অভিভাবক এ দিন  বলেন, ‘‘সংসদের নিয়ম মানছে না স্কুল। অন্যায় ভাবে এই ছাত্রীদের ফেল করানো হয়েছে।’’

স্কুল কর্তৃপক্ষ সেই দাবি না মানায় আজ, মঙ্গলবার উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা সংসদে যাওয়া হবে বলে জানিয়েছেন তাদের অভিভাবকেরা।

স্কুল সূত্রের খবর, এ দিন পড়ুয়াদের ডেকে তাদের খাতা দেখানো হয়। কিন্তু তাদের দাবি, পাশ করিয়ে দিতে হবে। না হলে তারা এই স্কুলে আর পড়বে না। অন্য স্কুলে দ্বাদশ শ্রেণিতে ভর্তি হবে। এর জন্য স্কুল কর্তৃপক্ষকে লিখে দিতে হবে, এই সব পড়ুয়ারা একাদশ শ্রেণিতে পাশ করেছে। স্কুল কর্তৃপক্ষ এই দাবি মানতে রাজি হননি। এর পরেই পড়ুয়ারা ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা শাশ্বতী অধিকারীর দফতরের সামনে ধর্নায় বসে।

এ দিন শাশ্বতীদেবী জানান, সংসদের নিয়ম মেনেই পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়েছে। তাতে দেখা গিয়েছে, এই পড়ুয়ারা পাশ করতে পারেনি। এরা কেউ কেউ দু’টি-তিনটি বিষয়ে অকৃতকার্য হয়েছে। পাশ করিয়ে দেওয়ার জন্য পড়ুয়া-অভিভাবকেরা চাপ দিলে তিনি এ দিন সংসদ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তিনি যে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, সংসদ কর্তৃপক্ষ তাতে অটল থাকার নির্দেশ দিয়েছেন বলে এ দিন জানান শাশ্বতীদেবী। তবে তাঁর এ কথা  মানতে  চাননি অকৃতকার্য পড়ুয়া এবং তাদের অভিভাবকেরা। এর পরে পড়ুয়ারা ধর্নায় বসে গেলে স্কুলের পক্ষ থেকে স্থানীয় থানায় খবর দেওয়া হয়। পুলিশ আসে। পরে পুলিশ এবং স্কুল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে অভিভাবকেরা সংসদের দ্বারস্থ হওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।

ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকার অভিযোগ, পাশ না করালে আত্মহত্যা করবে বলেও পড়ুয়ারা এ দিন হুমকি দিয়েছে। তাঁর আরও অভিযোগ, পড়ুয়ারা তাঁদের গালাগালিও করেছে। তিনি বলেন, ‘‘এরা আমাদের ছাত্রী। সন্তানসম। তাদের মুখে এমন ভাষা!’’ তিনি বলেন, ‘‘সংসদ আমাদের সিদ্ধান্ত বদল না করতে বলেছে। পড়ুয়া ও অভিভাবকেরা নাছোড়। তাই অভিভাবকদের সংসদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে।’’ তিনি জানান, এটি সরকারি স্কুল। যদি বিক্ষোভ-ধর্নার ফলে সরকারি সম্পত্তি নষ্ট হয়। সে কারণে পুলিশ ডাকা হয়েছিল। অভিযোগকারী এক অভিভাবক বলেন, ‘‘কাল সংসদে যাচ্ছি। স্কুলের এই অন্যায় সিদ্ধান্ত আমরা মানব না।’’


শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সম্পর্কিত নিবন্ধ

Leave a Comment