বিনোদন, সংস্কৃতি ও সাহিত্য 

বাংলা আকাদেমি সভাঘরে ‘জীবনকৃতি সাহিত্য সম্মাননা-২০১৯’ পেলেন কথাশিল্পী শেখ আব্দুল মান্নান

শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

নিজস্ব প্রতিনিধি :  গত ২০ এপ্রিল ২০১৯ শনিবার পশ্চিমবঙ্গ বাংলা আকাদেমি সভাঘরে এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের মধ্যে দিয়ে কথাশিল্পী শেখ আব্দুল মান্নানকে ‘জীবনকৃতি সাহিত্য সম্মাননা-২০১৯’ এ সম্মানীত করল ভাষা সাহিত্য- সংস্কৃতি ও গবেষণা বিষয়ক সংস্থা ‘একুশের ভাবনা’। এদিনের এই বিরল সম্মাননা সভায় সভাপতিত্ব করেন দৈনিক যুগশঙ্খ পত্রিকার মুখ্য সম্পাদক বিজয় কৃষ্ণ নাথ এবং সম্মাননা সভায় আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. সুরঞ্জন মিদ্দে,  রাজ্যসভার সাংসদ ও দৈনিক পুবের কলম পত্রিকার সম্পাদক আহমদ হাসান ইমরান,সাপ্তাহিক নতুন গতি পত্রিকার সম্পাদক এমদাদুল হক নূর,বাংলাদেশের প্রখ্যাত সাহিত্যিক নাজিব ওয়াদুদ, কথাশিল্পী দেওয়ান মোহাম্মদ সামসুজ্জামান, মাহমুদুল হাসান নিজামী, সল্টলেক ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব হোমিওপ্যাথির প্রাক্তন চিকিৎসক ডা. সরসিজ ঘোষ, কলকাতা এশিয়াটিক সোসাইটির গবেষক ড. ঋতা ভট্টাচার্য, পশ্চিমবঙ্গ সরকারের প্রাক্তন সচিব আরফান আলি বিশ্বাস,মেদিনীপুর ময়না কলেজের প্রাক্তন অধ্যক্ষ ড. অমরেন্দ্র নাথ বর্দ্ধন, সুরসুনা কলেজের অধ্যাপিকা ড. মনোরমা পোল্ল্যে,ভারততত্ত্ববিদ ড. দেবব্রত দাস,পুরুলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. গৌরী শঙ্কর নাগ,এশিয়াটিক সোসাইটির গবেষক ড . ঋতা ভট্টাচার্য, দমদম আর্টিস্ট এন্ড রাইটার্স ফোরামের সম্পাদক ড. কৃষ্ণ দূত, সাংবাদিক ও বাংলার জনরব পত্রিকার সম্পাদক সেখ ইবাদুল ইসলাম ও ‘আলাপ’ পত্রিকার সম্পাদক খায়রুল বাসার।

অনুষ্ঠানের সুচনায় আব্দুল মান্নানের ওপর নাট্যকার, গীতিকার,সুরকার জয়ন্ত রসিকের রচিত,সুরারোপিত উদ্বোধনী সঙ্গীত সমবেতভাবে পরিবেশন করে ‘ইদানীং নাট্যগোষ্ঠীর সঙ্গীত শাখা। এরপর একুশের ভাবনার সম্পাদক বদরুদ্দোজা হারুনের তথ্যসমৃদ্ধ স্বাগত ভাষণ দিয়েছিলেন শুরু হয় মূল অনুষ্ঠান কথাশিল্পী শেখ আব্দুল মান্নানের ‘জীবনকৃতি সাহিত্য সম্মাননা-২০১৯’। তাঁকে উত্তরিয় পরিয়ে সম্মানীত করেন সাংসদ ও পুবের কলমের সম্পাদক আহমদ হাসান ইমরান। অধ্যাপিকা যুথিকা পাণ্ডের পাঠের পর মূল্যবান মানপত্রটি মান্নানের হাতে তুলে দেন রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলার বিভাগীয় প্রধান ড. সুরঞ্জন মিদ্দে। জীবনকৃতি সম্মাননার স্মারক তুলে দেন দৈনিক যুগশঙ্খের (কলকাতা) মুখ্য সম্পাদক বিজয় কৃষ্ণ নাথ।

 

সম্মানীত হয়ে আব্দুল মান্নান তার আবেগ তাড়িত স্বল্প-কথায় বলেন- ‘আব্বা-মা যদি শত দু:খ দৈন্যতার মধ্যে নিজেরা অভুক্ত থেকে আমার মুখে অন্ন তুলে না দিতেন- তাহলে আজ আমি এ জায়গায় পৌঁছতে পারতাম না। তাই এই সম্মান আমার আব্বা-মার আশির্বাদের দান।” মঞ্চাসীন অতিথিরাও এদিন তাঁদের স্বল্প কথায় আব্দুল মান্নানের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।

আহমদ হাসান ইমরান  বলেন- আব্দুল মান্নান একজন স্মিতভাষী,সদালাপী মানুষ।আসামের গৌহাটী থেকে কেন্দ্রীয় সরকারের চাকরি সূত্রে কলকাতায়া বদলি হয়ে আসার পর থেকে তিনি কলমের নিয়মিত লেখক।তার গল্পে, প্রবন্ধে গ্রাম্যজীবনের ছবি, তাদের অভাব- অভিযোগেরই প্রাধান্য বেশি।আব্দুল মান্নানের চালচলন সাদামাটা হলেও কলকাতার বিদ্ব্যৎ সমাজে তার গ্রহনযোগ্যতা কত, আজকের কানায় কানায় পূর্ণ আকাদেমির প্রেক্ষাগৃহ তার প্রমাণ।

ড.সুরঞ্জন মিদ্দে বলেন, আব্দুল মান্নান একজন নিরঅহঙ্কার, পরোপকারী মানুষ।আব্দুল মান্নান কলকাতার বেশ কিছু সাহিত্য পত্রিকার সাহিত্য সংগঠকের দায়িত্ব পালন করছেন,কিন্তু কোনো পত্রিকার সম্পাদকের পদে তিনি নেই।এটা তার উদারতার প্রমাণ।

ড .ঋতা ভট্টাচার্য বলেন- প্রথম দর্শনেই মনে হয়েছিল মান্নান দা একজন গুণি মানুষ ।হাতেনাতে আজ তার প্রমাণ পেলাম। অতিথি শরণি ঘোষ বলেন এতদিন মান্নানকে যে ভাবে চিনতাম, আজ চিনলাম অন্যভাবে। আজ মান্নানের সম্মাননা সভায় এসে নিজেকে ধন্য মনে হচ্ছে।

এমদাদুল হক নূর বলেন- মান্নান দীর্ঘদিন কলকাতায় বসবাস করলেও তার মনের সাদাসিধে গ্রাম্য মানুষটিকে কব্জা করতে পারেনি শহুরে চাকচিক্য।তাই তার লেখার ভাবনা চিন্তা গ্রাম বাঙলার মাটির মানুষদের নিয়েই।তাই তার প্রতিটি গল্প ভীষণ মনোগ্রাহী।  বাংলাদেশের কবি মাহমুদুল হাসান নিজামী,সাহিত্যিক নাজিব ওয়াদুদ এবং কথাশিল্পী দেওয়ান মোহাম্মদের সামসুজ্জামান মান্নানের সাহিত্য কর্মের ভূয়সী প্রশাসনিক করেন। এই ব্যতিক্রমী অনুষ্ঠানে অন্যান্য বিশিষ্ট জন এদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন কবি অমর কুমার দাস, অনুবাদ সাহিত্যিক বাসুদেব দাস,কবি সাহানা জামান,তপতী গোস্বামী,পঙ্কজ চক্রবর্তী ,সৈয়দ সিয়াচেন আলী,আনোয়ার হোসেন,মহ:সানারুল মোমিন,সাহিত্যিক রেজাউল করিম,সাহিত্যিক অশোক কুমার পাণ্ডে,দুলাল সেখ,সুব্রত চক্রবর্তী ,সঞ্জীব কুমার দাশ,রঞ্জন নাথ ও অপাংশু ভূষণ গন।

এদিনের গাম্ভীর্যপূর্ণ অনুষ্ঠানে একুশে ভাবনার তরফে আরো পাঁচজন গুণিকে বিশেষ সম্মানে সম্মানিত করা হয়। সম্মানীত গুণিরা হলেন নাট্যশিল্পে অর্পিতা ভট্টাচার্য, সাহিত্যে নাজিব ওয়াদুদ, মাহামুদল হাসান নিজামী, দেওয়ান মো.সাসুজজামান ও সেখ আফতাব উদ্দিন সরকার।
সম্মাননার পাশাপশি এদিনের অনুষ্ঠানে শিল্পী হৈমন্তীদাস, অধ্যাপিকা যূথিকা পান্ডে, অপর্না হালদার ,মিনা ঘোষ, শর্বানী চ্যাটার্জী, শুভ্রা মুখার্জী, জয়শ্রী ভট্টাচার্য,প্রতিমা বসু,চন্দ্রা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পরিবেশিত একগুচ্ছ আবৃতি, গান এবং স্বরচিত কবিতা পাঠ শ্রোতাদের আপ্লুত করে দেয়।
এদিনের সমগ্র অনুষ্ঠান সুচারুভাবে সঞ্চালনা করেন সাহিত্যিক জয়ন্ত রসিক ও লেখিকা সবিতা বেগম।


শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সম্পর্কিত নিবন্ধ

Leave a Comment