জেলা 

অধীর ম্যাজিকেই কী জঙ্গীপুর ও মুর্শিদাবাদ কেন্দ্রে কংগ্রেস বাজিমাৎ করবে ?

শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

বুলবুল চৌধুরি : আগামী ২৩ এপ্রিল রাজ্যের পাঁচটি লোকসভা আসনে ভোট হতে চলেছে ।  এর মধ্যে বালুরঘাট ., মালদা উত্তর , মালদা দক্ষিন , জঙ্গীপুর ও মুর্শিদাবাদ লোকসভা কেন্দ্র । এর মধ্যে মুর্শিদাবাদ জেলার দুটি লোকসভা কেন্দ্রের দিকে তাকিয়ে আছে রাজ্যবাসী । কী হবে সেখানে ? কয়েক দশক ধরে চেষ্টা করেও মুর্শিদাবাদের মাটিতে দাঁত ফোটাতে পারেনি বামেরা । বছরে পর বছর জেলা পরিষদকে দখলে রেখেছিল কংগ্রেস । কিন্ত তৃণমূল কংগ্রেস ক্ষমতায় আসার পর নির্বাচনের মাধ্যমে নয় ; কংগ্রেস বিধায়কদের দলে নেওয়া  থেকে শুরু করে একের পর এক পঞ্চায়েত পুরসভা দখল করে শাসক দল । গত পঞ্চায়েত নির্বাচনে কার্যত সমগ্র জেলাতেই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়লাভ করে শাসক তৃণমূল । পঞ্চায়েত ভোটের পর এই প্রথম লোকসভা নির্বাচন হচ্ছে । বলা যেতে পারে অধীরের শাসন থেকে মুর্শিদাবাদ মুক্ত হওয়ার পর প্রথম দেশের নির্বাচন কমিশন দ্বারা ভোট হচ্ছে । স্বাভাবিকভাবেই অধীরের কাছে চ্যালেঞ্জ মুর্শিদাবাদে তাঁর কর্তৃত্বকে প্রতিষ্ঠা করা । তিনি অভিযোগ করেছেন , মুর্শিদাবাদে গত পঞ্চায়েত নির্বাচনে ভোট করতে দেয়নি শাসক দল । ভোট হলে নাকি কংগ্রেসই সব পঞ্চায়েত জিততো ।

এবার লোকসভা নির্বাচন হচ্ছে কমিশনের অধীনে । স্বাভাবিকভাবে এই ভোটে কারচুপি বা জোর জবরদস্তি হবে না । তাই অধীরের ম্যাজিক কতটা অটুট আছে তা অধীরকেই প্রমাণ করতে হবে ।

তবে অধীর চৌধুরিও বসে নেই । তিনি মসৃনভাবে বিগত তিনমাস ধরে সংগঠনের কাজ করে গেছেন । দল থেকে চলে যাওয়া পুরোনো কর্মীদের অনেকেই আবার অধীরের আহ্বানে সাড়া দিয়ে কংগ্রেসে ফিরে এসেছেন ।

জঙ্গীপুরে কংগ্রেস প্রার্থী অভিজিৎ মুখার্জি । তাঁর বাবা প্রনব মুখার্জি । তবু তাঁকে জিততে হলে অধীর ম্যাজিকেরই প্রয়োজন । তবে একথা স্বীকার করতে হবে জঙ্গীপুরে এবারে কংগ্রেসের লড়াই কঠিন হতে চলেছে । অভিজিতের বিরুদ্ধে মানুষের ক্ষোভ আছে । অন্যদিকে তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী করেছে এলাকার ভূমিপুত্র খলিলুর রহমানকে । সিপিএম প্রার্থী করেছে জুলফিকার আলীকে ; আর বিজেপি প্রার্থী করেছে মাফুজা বেগমকে । সুতরাং লড়াই কঠিন । এই লড়াই-এ কংগ্রেসের সাফল্য যদি আসে তাহলে একক অধীর ম্যাজিকেই আসবে ।

মুর্শিদাবাদ কেন্দ্রটি বরাবরই বামেদের শক্তঘাটি বলে পরিচিত ছিল । কিন্ত ২০০৪ সালে এখানে কংগ্রেস প্রার্থী মান্নান হোসেন জয়লাভ করেন । ২০০৯-তে তিনিই জয়লাভ করেন । কিন্ত ২০১৪ সালে তিনি হেরে যান । তারপর মান্নান হোসেন তৃণমূলে যোগ দেন । তাঁর হাত ধরে মুর্শিদাবাদ জেলায় তৃণমূলের সংগঠন অনেকটাই বৃদ্ধি পায় । পরে তিনি মারা যান । তারপর জেলার তৃণমূল দলের সভাপতি হন সুব্রত সাহা ।

তবে এবারের লোকসভা নির্বাচনে তৃণমূলের যিনি প্রার্থী হয়েছেন তিনি আসলে অধীরের শিষ্য । নওদা বিধানসভা কেন্দ্রে এই আবু তাহেরকে নির্দল প্রার্থী হিসেবে দাঁড় করিয়ে তিনি জিতিয়ে এনেছিলেন । সেই আবু তাহের এবার তৃণমূলের প্রার্থী হিসেবে লড়াই করছেন । অন্যদিকে কংগ্রেসের প্রার্থী হয়েছেন আবদুস সাত্তারের পুত্র আবু হেনা । জেলার রাজনীতিতে এই ভদ্রলোকটির কোনো শত্রূ নেই বলে শোনা যায় । এহেন একজন কিংবদন্তী রাজনীতিবিদের পুত্রকে প্রার্থী করে অধীর চৌধুরি তাঁর ম্যাজিক দেখাতে পারেন কিনা সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে রাজ্যবাসী ।

তবে এই আসনে বাম প্রার্থী বদরুদ্দোজা খান ভাল মানুষ হিসেবে পরিচিত । কিন্ত বামেদের বর্তমান যে সাংগঠনিক অবস্থা তাতে করে তাঁর জমানত টিকিয়ে রাখাটাই এখন চ্যালেঞ্জ । শোনা যায় , দিল্লিতে কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধীকে  নাকি অধীর কথা দিয়েছেন আবু হেনাকে প্রার্থী করলে মুর্শিদাবাদ আসনটি কংগ্রেস ফের দখলে আনতে পারবে । রাহুলকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি কতটা বাস্তবায়িত হয় অধীর ম্যাজিকে তার জন্য অপেক্ষা করতে হবে ২৩ মে পর্যন্ত ।


শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সম্পর্কিত নিবন্ধ

Leave a Comment