জেলা 

গণি বা তাঁর দল কংগ্রেস ত্যাগ করে অন্য দলের প্রার্থী হয়ে মালদার মানুষের আর্শীবাদ পাওয়া খুবই কঠিন । মৌসম কী পারবেন গণির ভিতে ফাটল ধরাতে ?

শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

বুলবুল চৌধুরি : বরকত গণি খান চৌধুরি স্বাধীনোত্তর ভারতে বাঙালি রাজনীতিবিদ হিসেবে এ কে ফজলুল হকের সমকক্ষ বললে অত্যুক্তি হবে না। আমৃত্যু কোতায়ালির জমিদার পরিবার সন্তান গণি খান নিজের ইমেজকে সম্বল করে জিতে এসেছেন মালদা থেকে । এখন মালদায় দুটি লোকসভা আসন । আর দুটি লোকসভা আসনে যখনই ভোট  হয় সব দলকে এখন বলতে হয় গণি খানের স্বপ্ন তারা পূরণ করবে । মমতা থেকে বুদ্ধদেব , বিজেপি পর্যন্ত গণি খানের স্বপ্ন পূরণের আশা দেখিয়ে মালদার মানুষের মনকে জয় করার চেষ্টা করতে হয় ।

আর গণি খান মানেই কংগ্রেস ; তার প্রতীক হাত । এটাই মালদার ১৮ থেকে ৮০ সব বয়সীদের কাছে আপ্তবাক্য । হাত চিহ্ন মানেই গণি খানের আদর্শের দল । বরকত সাহেব বেঁচে থাকাকালীন সময়ে জ্যোতিবাবুরা বহু চেষ্টা করেও গণি খানকে হারাতে পারেননি । ফারুক আবদুল্লাহর মত নেতাকে জ্যোতিবাবুরা প্রচারে এনেও গণির ভিতে চিড় ধরাতে পারেননি । শেষ বয়সে গণি খান ভাল করে হাঁটা চলা করতে পারতেন না; প্রচারে বেরিয়েছেন মানুষ তাকে বলেছেন আপনার আসার দরকার নেই । আপনি জিতবেন । বামেরা ৩৪ বছর ধরে চেষ্টা করেও গণি মিথের ভাঙন ধরাতে পারেনি ।

তৃণমূল কংগ্রেস রাজ্যে ক্ষমতায় আসার পর মুকুল রায়ে কূটচালে সর্ব প্রথম গণি পরিবারে ভাঙন ধরে । তাঁর ছোট ভাই কংগ্রেসের এমএলএ হয়েও দল ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দেন । কিন্ত আর জিততে পারেনি । গণি খানের একদা ঘনিষ্ঠ সহযোগী কৃষ্ণেন্দু নারায়ণ চৌধুরিকে মুকুল রায় তৃণমূলে এনেছিলেন । পরে তিনি আর জিততে পারেন নি। গণি খানের প্রিয় পাত্রী সাবিত্রী মিত্রও কংগ্রেস ছেড়ে তৃণমূলে গিয়েছিলেন তিনিও জিততে পারেননি ।

মালদার জেলার বাসিন্দা এনতাজ আলি কথা প্রসঙ্গে বললেন , আপনাকে মনে রাখতে মালদার প্রত্যন্ত এলাকার মানুষ এখনও মনে করেন ভোট দিতে হবে শুধু হাতে , আর এক গোষ্ঠী মনে করে ভোট দিতে হবে কাস্তে-হাতুড়ি প্রতীকে । গ্রামীণ এলাকায় গত পঞ্চায়েত নির্বাচনে কার্যত জোর করে পঞ্চায়েত দখল করার কারণে এখনও মানুষ তৃণমূলের প্রতীকই চেনে না ভাল করে । এখানে ফুল প্রতীক বলতে এটাকে বিজেপির প্রতীক বলে সাধারন মানুষ মনে করে থাকে । এনতাজের বক্তব্যের মধ্যে সত্য-মিথ্যা যাই থাকুক না কেন এটা বাস্তব মৌসমের জয় অনিশ্চিত । নিশ্চিত করে তৃণমূল নেতৃত্ব বলতে পারছেন না তারা জিততে পারবে কিনা ।

লেবু বাবু গণি খানের দল ছেড়ে মমতার দলে যোগ দেওয়ার পরে মানুষ তাঁকে মেনে নেয়নি ।  অথচ গণির অপছন্দের পাত্র হওয়া সত্বে শুধু মাত্র গণির দলের পক্ষ থেকে বিধানসভায় প্রার্থী হওয়ায় তিনি জয়ী হয়েছিলেন । যেদিন কংগ্রেস ত্যাগ করে তৃণমূলে গেলেন তারপর থেকে গণি পরিবারের সদস্য হওয়া সত্বেও মানুষের আর্শীবাদ পাননি ।একথা যেমন লেবুবাবুর ক্ষেত্রে সত্য একইভাবে এটা কৃ্ষ্ণেন্দু নারায়ন চৌধুরি ও সাবিত্রী মিত্রের ক্ষেত্রে দেখা গেল । তাহলে এটা প্রমাণিত মালদার মাটিতে গনির মিথ এখনও বর্তমান । গণি বা তার দল কংগ্রেস ত্যাগ করে অন্যদলের প্রার্থী হয়ে মালদার মানুষের আর্শীবাদ পাওয়া খুবই কঠিন । মৌসম কী পারবেন গণি ভিতে ফাটল ধরাতে ?

 

আর ডালুবাবু তো প্রথম রাউন্ডে জিতে গেছেন । তাঁর কেন্দ্রে বামেরা কোনো প্রার্থী দেয়নি । ফলে বামেদের ভোটের বিরাট অংশ তিনি পাবেন । অতএব ডালুবাবুর জয় নিয়ে কোনো সংশয় আছে বলে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন না । তবে মালদার উত্তর নিয়ে সংশয়ে আছে রাজনৈতিক পর্য়বেক্ষকরা বিদায়ী সাংসদ মৌসম বেনজির নূর এবং কংগ্রেস প্রার্থী ঈশা খান চৌধুরির মধ্যে  ভোট ভাগাভাগির খেলায় শেষ পর্যন্ত গেরুয়া শিবিরের ভাগ্যে না শিকে ছিড়ে যায় !


শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সম্পর্কিত নিবন্ধ

Leave a Comment