কলকাতা 

যোগী রাজ্যের ৭৪৪২ টি মাদ্রাসা সহ বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলিতে আন-এডেড মাদ্রাসাগুলি কেন্দ্রীয় সাহায্য পেলেও বঞ্চিত এই রাজ্যের মাদ্রাসাগুলি ; মুখ্যমন্ত্রী নন , দায়ী সংখ্যালঘু দফতরের আধিকারিকরা মন্তব্য আইনজীবী আবু সোহেলের

শেয়ার করুন
  • 99
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

বুলবুল চৌধুরি : সংখ্যালঘু উন্নয়নে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করে থাকেন তিনি দেশের মধ্যে সবচেয়ে ভাল কাজ করেছেন । তাঁর দাবি  ১০০ শতাংশ কাজ তিনি করে ফেলেছেন । কিন্ত পাঠকবর্গ আপনাদের হয়তো মনে আছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ক্ষমতায় আসার কিছুদিন পরেই ঘোষণা করেছিলেন তিনি ১০ হাজার মাদ্রাসাকে আন-এডেড হিসেবে স্বীকৃতি দেবেন । সেই মতো আবেদন নেওয়া শুরু হল । সেই আবেদনের প্রেক্ষিতে তৃণমূল মন্ত্রীদের ঘনিষ্ঠ নেতারা কিভাবে কাটমানি খেয়েছেন সেই প্রামাণ্য হাতের কাছে থাকলেও তা পেশ করছি না । জেলায় জেলায় আন-এডেড মাদ্রাসা অনুমোদন দেওয়ার নামে গড়ে উঠেছিল বিশেষ কমিটি । সেই কমিটির সদস্যরা সবাই তুণমূলেরই । তাদের কার্যকলাপ নির্বাচনের সময় প্রকাশ করছি না । সময় এলে তা প্রকাশ করা হবে ।

যাইহোক , মমতার আশ্বাসে অনেকেই খুশি হয়ে আন-এডেড মাদ্রাসা অনুমোদনের জন্য আবেদন করে । আন এডেড মাদ্রাসা অনুমোদন  পেলে সরকারের নানা সুযোগ সুবিধা পেতে পারে । সাংসদ বিধায়ক কোটার টাকা থেকে শুরু করে মিড-ডে মিল ও পড়ার বইও পাবে । এছাড়াও কেন্দ্রীয় সরকারের মাদ্রাসা আধুনিকীকরণের জন্য  ভাষা শিক্ষা , বিজ্ঞান শিক্ষার জন্য শিক্ষকদের মাস মাইনে সহ কমপিউটার ল্যাব তৈরির জন্য এবং লাইব্রেরির জন্য আলাদা বরাদ্দ পেতে পারে মাদ্রাসাগুলি । এগুলি সবই পাওয়া যাবে কেন্দ্রের সংখ্যালঘু উন্নয়ন দফতর থেকে ।

অনেক কাঠ-খড় পুড়িয়ে তৎকালীন মাদ্রাসা বোর্ডের সচিব নুরুস সালামের বিশেষ উদ্যোগে এই রাজ্যের ২৩৪টি মাদ্রাসার শিক্ষকদের বেতন ও পরিকাঠামো উন্নয়নের জন্য টাকা বরাদ্দ করে কেন্দ্রের সংখ্যালঘু দফতর । তৃণমূলের অনেক নেতার কথা না শোনার কারণে যোগ্য হওয়া সত্ত্বে নুরুস সালামকে মাদ্রাসা বোর্ড থেকে সরিয়ে দেওয়া হয় । তারপর আর অনুমোদন আসেনি । মিল্লাত দরদীরা খবরের কাগজে ছবি তুলতে ব্যস্ত হলেও ২৩৪ টি মাদ্রাসা শিক্ষক-শিক্ষিকা ও ছাত্র-ছাত্রীদের কথা আর মনে পড়ে না । যার ফলে মাদ্রাসাগুলিতে কেন্দ্রীয় সাহায্য বন্ধ হয়ে গেছে এই রাজ্যে ।

দুঃখের বিষয় হল মমতা সরকার ধর্মনিরপেক্ষ সরকার বলে নিজেদেরকে দাবি করলেও তাদের আমলেই আন এডেড মাদ্রাসাগুলি কেন্দ্রীয় সাহায্য থেকে বঞ্চিত হয়েছে । অন্যদিকে বিজেপি শাসিত রাজ্যে আন-এডেড মাদ্রাসাগুলি একের পর এক কেন্দ্রীয় সাহায্য পেয়ে চলেছে । এবছরই যে তালিকা কেন্দ্রীয় সরকার প্রকাশ করেছে সেখানে দেখা যাচ্ছে , উত্তরপ্রদেশের ৭৪৪২টি মাদ্রাসাকে টাকা বরাদ্দ করেছে কেন্দ্রীয় সরকার । টাকার অংকে ২৬৬ কোটি ৮লাখ ৮০ হাজার । এর মধ্যে ৫২১২ গ্র্যাজুয়েট শিক্ষকের বেতন ,আর ১৫৯১৪ জন স্নাতকোত্তর শিক্ষকদের বেতনও রয়েছে ।

উত্তরাখন্ড রাজ্যের মাদ্রাসাগুলির জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে এক কোটি বাহান্ন লাখ একহাজার পাঁচশো টাকা ; এই রাজ্যে ৩১ জন গ্র্যাজুয়েট শিক্ষক ও ৬৯ পোষ্ট গ্র্যাজুয়েট শিক্ষকের বেতন দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে । একই ভাবে ত্রিপুরা রাজ্যেরও ১২৮টি মাদ্রাসা কেন্দ্রের  সাহা্য্য পাবে । চন্ডীগড়েও ২৩৪ টি মাদ্রাসাকে কেন্দ্র সাহায্য দিয়েছে ।

ব্যতিক্রম শুধুমাত্র পশ্চিমবঙ্গে এখানকার মুখ্যমন্ত্রী কয়েক হাজার আন-এডেড মাদ্রাসার শিক্ষকদের গ্রাস কেড়ে নিয়েছে বলে অভিযোগ । এমনকি এই সরকারের কোনো প্রতিনিধি দিল্লিতে কেন্দ্রীয় সংখ্যালঘু দফতরের ডাকা বৈঠকে যাননি । ফলে কেন্দ্রীয় বরাদ্দ বন্ধ হয়ে আছে । আন-এডেড মাদ্রাসা বাঁচাও কমিটির সেক্রেটারি আবদুল ওয়াহাব জানিয়েছেন , এই সরকারের আমলে সবচেয়ে সংকটে রয়েছে মাদ্রাসা শিক্ষা । সমগ্র বাংলায় কয়েক হাজার শিক্ষক বঞ্চিত হয়েছে শুধুমাত্র রাজ্য সরকারের উদাসিনতায় । এর বিরুদ্ধে বাংলার সংখ্যালঘু সমাজকে রুখে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন আবদুল ওয়াহাব ।লোকসভা নির্বাচনের পরেই বৃহত্তর আন্দোলনের পথে যাবে আন-এডেড মাদ্রাসার শিক্ষকরা বলে জানা গেছে ।

এ বিষয়ে আইনজীবী আবু সোহেল বলেছেন , কেন্দ্রীয় বরাদ্দ না পাওয়ার পেছনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কতখানি দায়ী তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে , তবে এর নেপথ্যে যে সংখ্যালঘু দফতরের আমলারা দায়ী ,তা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই । আর বিশেষ করে সংখ্যালঘু দফতরের মুসলিম আধিকারিকদের উদাসিনতায় আন এডেড মাদ্রসাগুলি বরাদ্দ থেকে বঞ্চিত হয়েছে । আর এই বঞ্চনা আসলে দেশের সংখ্যালঘুদের সাংবিধানিক অধিকারে হস্তক্ষেপ বলে মনে করেন বিশিষ্ট আইনজীবী আবু সোহেল ।


শেয়ার করুন
  • 99
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সম্পর্কিত নিবন্ধ

Leave a Comment