দেশ 

একবার দুবার নয় , ১৬ বার জমানত হারিয়েও ভোটের ময়দানে ফের ফক্কড় বাবা

শেয়ার করুন
  • 2
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

বাংলার জনরব ডেস্ক : উত্তরপ্রদেশের মথুরার সাধু বাবা ওরফে ফক্কড় বাবা পরিচিত এবার নিয়ে ১৭ বার ভোটে দাঁড়ালেন জিততে পারেননি একবারও । তবে আশাহত হননি তিনি । তিনি মনে করেন একদিন ভোটাররা তাঁর গুরুত্ব বুঝবে সেদিন তাঁকে ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করবেন ।শুরুটা করেছিলেন ইন্দিরা গান্ধীর জরুরি অবস্থার বিরুদ্ধে প্রতিবাদের মধ্য দিয়ে । সেবারই তিনি প্রথম লোকসভায় প্রার্থী হয়েছিলেন ।

এরপরবিধানসভায় আট বার। আর লোকসভা ২০১৯ অর্থাৎ এ বার ধরলে ন’বার। জরুরি অবস্থার পর যে লোকসভা ভোট হয়েছিল, তখন থেকে লোকসভা নির্বাচনে তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ছেদ পড়েনি। বিধানসভা-লোকসভা মিলিয়ে মোট ১৭ বার প্রার্থী হয়েছেন। ভোট এলেই নির্দল প্রার্থী হয়ে দাঁড়িয়ে পড়েন ফক্কড় রামায়ণী ওরফে ফক্কড় বাবা (নির্বাচন কমিশনে এই নামেই মনোনয়ন পেশ করেছেন)। ২০১৪ সালে তো জামানত জব্দ হয়েছিল বাবার। কিন্তু তাতেও আক্ষেপ নেই। জনগণ একদিন তাঁকে নিশ্চয়ই বুঝতে পারবেন— বক্তব্য ফক্কড় বাবার।

কলাকাতা থেকে আনন্দবাজার পত্রিকায় প্রকাশিত খবর থেকে জানা যাচ্ছে ,ফক্কড় বাবা ভোটে লড়তে ৭৩ বসন্ত পার করে ফেলেছেন। পেশায় সাধু বা সন্ত। মথুরার গলতেশ্বর মন্দিরের প্রধান পুরোহিত। পুজোপাঠ আর অন্যের দরজায় ভিক্ষে করেই ‘কষ্টেসৃষ্টে দিন চলে যায়’। এখন অবশ্য দোরে দোরে গিয়ে ভোট ভিক্ষা করে ফিরছেন। এ বারও গত ২৬ মার্চ নির্বাচন কমিশনে মনোনয়ন জমা দিয়ে ফেলেছেন।

ভোটে জিতলে কী করবেন ফক্কড় বাবা ? যমুনাকে দূষণমুক্ত করে নির্মল নদী উপহার দেওয়াই এবারও ফক্কড় বাবার অন্যতম প্রতিশ্রুতি। তার সঙ্গে রাম মন্দির। মনোনয়ন জমা দেওয়ার পর সংবাদ সংস্থা পিটিআই-কে ফক্কড় বাবা বলেছেন, ‘‘জিতলে অন্য সাংসদদের বুঝিয়ে রাজি করাব, কেন ইতিহাস পুনঃস্থাপনে রাম মন্দির নির্মাণের প্রয়োজন। আমি মনে করি ভোটাররা এক দিন ঠিকই এর গুরুত্ব বুঝতে পারবেন এবং আমাকে ভোট দিয়ে জিতিয়ে দেবেন।’’

সত্যি যদি জিততে পারেন, তাহলে কী করবেন ফক্কড় বাবা? দেশের জন্য ‘রামমন্দির’ আর ‘নির্মল যমুনা’। কিন্তু নিজের জন্য? বাবা বলছেন, ‘‘হাঁটুতে খুব ব্যথা। হাঁটতে কষ্ট হয়। তাই জিতলে একটা গাড়ি কিনব। সেটাতেই যাতায়াত করব।’’ যদিও পরক্ষণেই সামলে নিয়ে বলেন, সে গাড়ির ‘খরচ বহন করবেন তাঁর শিষ্যরাই’।

শিষ্যরা ভোট দেবেন তো? সে প্রশ্নের উত্তর অবশ্য ২৩ মে গণনার পরেও বোঝা খুব দুষ্কর হবে। কে ভোট দিল বা দিল না, প্রতিটি ভোট বিশ্লেষণ করে তার উত্তর পাওয়ার মতো মেকানিজম কি আর বাবার আছে? রাজনীতি যতই সম্ভাবনার শিল্প হোক, শুধু শিষ্যদের ভরসায় যে ভোটে জেতা যে বড্ড কঠিন, ১৬ বার লড়াই করে এত দিনে বুঝে যাওয়ার কথা ফক্কড় বাবার। তবু ভোট এলেই বাবার মধ্যে যেন লড়াইয়ের প্রবৃত্তি জেগে ওঠে।

লড়াইয়ে এ বার তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী বিজেপির হেভিওয়েট তারকা প্রার্থী হেমা মালিনী। ফলে তাঁর পক্ষে মথুরায় জয় পাওয়া যে কার্যত অসম্ভব, সেটা জানেন ফক্কড় বাবা। তবু শুধু মনের কোণায় জমে থাকা বিশ্বাসে ভর করেই ভোটে দাঁড়িয়ে পড়েন বারবার। হেরেছেন ১৬ বার। এবার হয়তো মথুরার মানুষ তাঁর দিকে কৃপা দৃষ্টি দিতে পারেন । তাহলে তো স্বপ্ন সফল ।


শেয়ার করুন
  • 2
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সম্পর্কিত নিবন্ধ

Leave a Comment