কলকাতা 

মাদ্রাসার চাকরি প্রার্থীদের উপর পুলিশী হামলার নিন্দায় সরব বিশিষ্ট বুদ্ধিজীবী ও শিক্ষারত্ন মাসুম আখতার

শেয়ার করুন
  • 186
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

বুলবুল চৌধুরি : মেয়ো রোডে একই জায়গায় একটানা ২৯ দিন এসএসসির চাকরি প্রার্থীরা অনশনে বসলেন , রাজ্যের সব রাজনৈতিক দলের তাবড় তাবড় নেতারা ওই অনশন মঞ্চে গিয়ে সহমর্মিতা প্রকাশ করে এলেন । শেষে গেলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ; তিনি আশ্বাস দিলেন ফলে অনশন উঠে গেল । আর ঠিক তার পরের দিনেই মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশনের বঞ্চিতরা অনশনে বসলেন । এবার আর কোনো নেতা এলেন না । অভিযোগ এবার লালবাজারের পুলিশ এসে বেধড়ক মারলেন অনশনকারীদের । এটা শুধু অন্যায় নয় , গনতান্ত্রিক শিষ্টাচারের বিরোধী বলে মন্তব্য করলেন বিশিষ্ট বুদ্ধিজীবী রাজ্য সরকার কর্তৃক শিক্ষারত্ন প্রাপক প্রধান শিক্ষক কাজী মাসুম আখতার ।

কাজী মাসুম আখতার শুধু শিক্ষারত্নই পাননি একই সঙ্গে সফল প্রধান শিক্ষক হিসেবে তিনি আনন্দবাজার পত্রিকা থেকে ২০১৬ সালে দ্রোনাচার্য পুরস্কারও পেয়েছেন । এহেন একজন সফল প্রধান শিক্ষক মাদ্রাসার চাকরি প্রার্থীদের উপর পুলিশী নির্যাতনের কড়া নিন্দা করেছেন । মাসুম আখতার একজন মানবতাবাদী সমাজকর্মী হিসাবে পরিচিত । যেকোনো অন্যায়ের বিরুদ্ধে তিনি প্রতিবাদ করেন । এজন্য তাঁকে অনেক সময় নানা সমস্যাতে পড়তে হয়েছে ।

তিনি বলেন , শুধু মাত্র মুসলমানরা কোনো ধরনের আন্দোলন করতে গেলে তাঁদেরকে এভাবেই রাষ্ট্রশক্তি দমিয়ে রাখার চেষ্টা করে । এর আগে বামফ্রন্ট সরকার একই কাজ করেছে , বর্তমান মমতা সরকারও সেই পথেই হাঁটছে। কয়েক বছর আগে আন-এডেড মাদ্রাসার শিক্ষকরা মাদ্রাসা বোর্ডের সামনে অনশনে বসেছিলেন । সেই অনশন ৯৬ দিন ধরে চলেছিল । তাতেও টনক নড়েনি সরকারের । শেষ পর্যন্ত জোর করে সেই অনশন তুলে দেওয়া হয় । সেই সময় অনশন করতে গিয়ে একজন মারাও গেছেন । তা সত্ত্বে সরকারের পক্ষ থেকে এখনও আন-এডেড মাদ্রাসার সমস্যার সমাধান করা হয়নি ।

বিশিষ্ট বুদ্ধিজীবী ও বিভিন্ন পত্রিকার কলামিষ্ট কাজী মাসুম আখতার আরও বলেন , আসলে সবাই মুসলমানদের ব্যবহার করতে চায় । কেউ তাদেরকে অধিকার দিতে চায় না । আর যখন অধিকারের দাবিতে তারা আন্দোলনে নামে ঠিক তখনই তাদের নেতাদেরকে কিনে নেয় শাসক দল ।

ভাবতে অবাক লাগছে রাজ্যের ঘোষিত কয়েকটি মুসলিমদের দৈনিক পত্রিকা আছে তারাও মুসলিমদের উপর এই বঞ্চনা নিয়ে কিছু বলে না । কারণ তারাও সরকারের কাছ থেকে সুযোগ নিতে চায় । তিনি আরও বলেন , মুসলিম সমাজে যেসব সামাজিক ও ধর্মীয় নেতা আছেন তাঁরা এই ইস্যুগুলিকে সামনে আনার চেষ্টা করে না । কিংবা অনেক সময় তারা নিজেদের স্বার্থেই এগুলিকে এড়িয়ে যায় ।

আবার অনেককে দেখা যায় সরকারের দৃষ্টিতে আসার জন্য অহেতুক ইস্যু নয় সেগুলিকেও যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে পরিণত করার চেষ্টা করছেন । মুসলমানদের খাদ্য-বাসস্থান আর বস্ত্রের সমস্যার প্রতি দৃষ্টি না দিয়ে এরা নিজেদের প্রতি দৃষ্টি দিতে বেশি পচ্ছন্দ করেন । তিনি বলেন , এক সময় যেসব নেতারা আগের সরকারের সামান্য বিষয় নিয়ে গর্জে উঠতেন আজ তাঁরা সরকারের কাছে ভাল থাকার জন্য বা কিছু পাওয়ার আশায় আর মুখ খোলেন না । এই ভাবে মুসলিম সমাজের স্বঘোষিত নেতাদের স্বার্থে বলি হতে হচ্ছে রাজ্যের মুসলিম সমাজকে । মুসলিম সমাজের উচিত সৎ-আদর্শবান প্রকৃত অর্থে যারা এই সমাজকে নিয়ে চিন্তাভাবনা করে তাদেরকে খুজে বের করা । তা না হলে এই সমাজের কোনো উন্নয়ন হবে ।

সাময়িকভাবে হয়তো আন্দোলন সংগঠিত হবে কিন্ত শেষ পর্যন্ত সেই আন্দোলন দানা বাধার আগেই শেষ হয়ে যাবে । তাই বাঙালি মুসলিম সমাজকে উপযুক্ত যোগ্য নেতৃত্বকে খুজে বের করতে হবে । নচেৎ এই সমাজের কোনো উন্নয়নই হবে না বলে মাসুম আখতার মন্তব্য করেন ।

 

 


শেয়ার করুন
  • 186
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সম্পর্কিত নিবন্ধ

Leave a Comment