কলকাতা 

মাদ্রাসার চাকরি প্রার্থীদের অনশন মঞ্চে পুলিশী হামলার প্রতিবাদে ধিক্কার মিছিল ও নবান্ন অভিযানের ডাক দিলেন ত্বহা সিদ্দিকী

শেয়ার করুন
  • 83
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

বুলবুল চৌধুরি : শুক্রবার ভোরে ফজরের নামায পড়া অবস্থায় মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশনের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ চাকরি প্রার্থীদের অনশন মঞ্চ থেকে জোর করে পুলিশ তুলে দিয়েছে বলে অভিযোগ । অভিযোগ উঠেছে মনিরুল নামে একজনকে নামায পড়া অবস্থায় পুলিশ জোর করে তুলতে গিয়ে ,তাঁর উপর লাঠিচার্জ করে এবং তাঁকে নাকি আছাড় মেরে ফেলে দেয় বলে সোস্যাল মিডিয়ায় ব্যাপক প্রচার চলছে । যদিও এ নিয়ে কলকাতা পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে যে ওখানে ১৪৪ জারি রয়েছে তাই পুলিশ অবস্থানকারীদের ওখান থেকে চলে যেতে বলে । পুলিশ কোনো রকম বলপ্রয়োগ করেনি ।

উল্লেখ্য , কলকাতা প্রেস ক্লাবের কাছে মেয়ো রোডে এসএসসি-র চাকরি প্রার্থীরা ২৯ দিন ধরে অনশন চালিয়েছে । শেষ পর্যন্ত মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অনশন মঞ্চে গিয়ে অনশনকারীদের আশ্বস্ত করার পরেই ২৯ দিনের মাথায় তারা আন্দোলন প্রত্যাহার করে নেয় । এরপরেই দেখা যায় যে , ওখানে গিয়ে বসে পড়ে মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশন থেকে পাশ করা বেশ কয়েক জন তাদের দাবি অবিলম্বে তাদেরকে নিয়োগ দিতে হবে । ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবদুর রউফ । তিনি আন্দোলনকারীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং সমস্যার সমাধানের জন্য পদক্ষেপ করার কথা বলেন । কিন্ত আন্দোলনকারীরা জানিয়ে দেন যে সমস্যার সমাধান এখনই করতে হবে । তা না হলে তাঁরা অবস্থান ও অনশন প্রত্যাহার করবেন না ।

বৃহস্পতিবার রাতে ওখানেই অনশনকারীরা অবস্থান করে । শুক্রবার ভোরে পুলিশ আসে বলে অভিযোগ উঠেছে । তারপরেই পুলিশ লাঠিচার্জ করে বলে অভিযোগ । ঘটনার বিবরনে জানা যাচ্ছে , এরপরেই নাকি আন্দোলনকারীরা ভয় পেয়ে টিপু সুলতান মসজিদে আশ্রয় নেন । মসজিদ ভেতরেও নাকি পুলিশ ঢুকে আন্দোলনকারীদের চলে যেতে বলে অভিযোগ । আর এই পরিস্থিতিতে বাংলার সংখ্যালঘু সমাজ কলকাতা পুলিশের ভূমিকাকে ভালো মনে মেনে নিতে পারছে না । তারা মনে করছে মমতা সরকারের পুলিশের ভেতরে মুসলিমদের সম্পর্কে এক ধরনের আলাদা সেন্টিমেন্ট কাজ করে । সেই জন্যেই ২৯ দিন ধরে চলা এসএসসির চাকরি প্রার্থীদের অনশন মঞ্চে কোনোভাবেই পুলিশ হেনস্থা কিংবা তুলে দেওয়ার চাপ সৃষ্টি করেনি । অথচ মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশনের কয়েকজন চাকরি প্রার্থী অনশনে বসার পরেই পুলিশের এই তৎপরতার কারণ কী ? কারা এর নেপথ্যে রয়েছেন ? এ নিয়ে সোস্যাল মিডিয়ায় জোর প্রচার চলছে ।

 

আর এই প্রচার আরও বেশি জোরালো হচ্ছে ফুরফুরা শরীফের পীরজাদা ত্বহা সিদ্দিকীর ডাকে আগামী ৬ এপ্রিল শনিবার মাদ্রাসার চাকরিপ্রার্থীদের অনশন মঞ্চে পুলিশী অভিযানের বিরুদ্ধে নবান্ন অভিযানের ডাককে ঘিরে । ফুরফুরা শরীফের পীরজাদা ত্বহা সিদ্দিকীর ডাকে এই নবান্ন অভিযানে ব্যাপক জমায়েত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে । লোকসভা ‍ নির্বাচনের মুখে মমতা সরকারের পুলিশ মাদ্রাসার চাকরি প্রার্থীদের উপর হামলা করার ফলে ভোটে কীরকম প্রভাব পড়ে সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে রাজনৈতিক মহল ।

অবশ্য ত্বহা সিদ্দিকীর সংগঠন ফুরফুরা শরীফ মোজাদ্দেদিয়া অনাথ ফাউন্ডেশনের সঙ্গে , সারা বাংলা সংখ্যালঘু যুব ফেডারেশন , বেঙ্গল মাদ্রাসা এডুকেশন ফোরাম , পশ্চিমবঙ্গ মাদ্রাসা ছাত্র ইউনিয়ন সহ আরও কয়েকটি সংখ্যালঘু সংগঠন নবান্ন অভিযান ও ধিক্কার মিছিলে সামিল হচ্ছে বলে জানা গেছে ।


শেয়ার করুন
  • 83
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সম্পর্কিত নিবন্ধ

Leave a Comment