কলকাতা 

ডাক বিভাগে নিয়োগ নিয়ে মাদ্রাসা সার্টিফিকেট ইস্যুতে মুখ্যসচিবের পাঠানো চিঠির উত্তর দেয়নি কেন্দ্র

শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

নিজস্ব প্রতিনিধিঃ ভারত বর্ষ তথা দেশের ইতিহাসে নজির সৃষ্টি করেছে মাদ্রাসা শিক্ষাব্যবস্থা। দেশে প্রথম শিক্ষামন্ত্রী মৌলানা আবুল কালাম আজাদ এর মত বরেণ্য ব্যক্তিও মাদ্রাসার ছাত্র ছিলেন। আর এই রাজ্যে ১৯৭২-৭৩ সালে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী সিদ্ধার্থ শংকর রায়ের সময়ে মাদ্রাসা বোর্ড প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। সেই থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত মাদ্রাসা বোর্ডের সার্টিফিকেট অগ্রাহ্য করেনি কেন্দ্র। এর আগেও দেশের মসনদে ছিল বিজেপি। ২০০৩ সালে আর্মি নিয়োগের পরীক্ষায় মাদ্রাসার ছাত্ররা আবেদন করতে পারবে না বলে জানানো হয়েছিল কেন্দ্রের তরফে। কিন্তু  রাজ্যের তৎকালীন মাদ্রাসা পর্ষদ সভাপতি তথা রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী আব্দুস সাত্তার ও মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের দৃৃঢ় পদক্ষেপে শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্ত বদল করেছিল বাজপেয়ী সরকার। অন্যান্য সংস্থার মতোই  মাদ্রাসা পড়ুয়াদেরকেও আবেদনের সুযোগ দেয়া হয়েছিল। এবার কেন্দ্র সরকারের ডাক বিভাগের নিয়োগকে কেন্দ্র করেও একই জটিলতা তৈরি হয়েছে। এবারেও রাজ্যের তরফে মুখ্যসচিব মলয় দে গত ২৩ এপ্রিল চিঠি পাঠিয়েছেন ডাক বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে। কিন্তু দু’সপ্তাহ পার হয়ে গেলেও এখনো পর্যন্ত কেন্দ্রের তরফে রাজ্যকে  কোনও উত্তর পাঠানো হয়নি। ওয়াকিবহাল মহল মনে করছে, কেন্দ্র এই অনড় মনোভাবের মধ্য দিয়ে আসলে খুব সচেতনভাবে মাদ্রাসা শিক্ষা ব্যবস্থাকে অপ্রাসঙ্গিক করে তুলতে চাইছে। এ নিয়ে যথেষ্ট ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে বিশিষ্ট মহলে। প্রশ্ন উঠছে তাহলে কি মোদি সরকার দেশজুড়ে় গৈরিকীকরণের  লক্ষ্যেই এটা করছে?

প্রসঙ্গত, চলতি বছরের প্রথমের দিকে গ্রামীণ ডাক সেবক পদে নিয়োগের জন্য বিজ্ঞপ্তি জারি করেছিল  ডাক বিভাগ। সেক্ষেত্রে পর্ষদের সাটিফিকেট বেআইনি বলে মাদ্রাসা পড়ুয়াদের আবেদন গ্রহণ করেনি ডাক বিভাগ। অথচ এর আগে অনেক মাদ্রাসা পড়ুয়াই ডাক বিভাগে চাকরি পেয়েছে বলে জানা গিয়েছে। সে ক্ষেত্রে ডাক বিভাগের বক্তব্য, তারা গত বছর রাজ্যের সঙ্গে কথা বলে জানতে পারে মাদ্রাসা বোর্ড যে শংসাপত্র ইস্যু করে তা বেআইনি। অথচ আগে ডাক বিভাগ সহ আর্মি, রেল, মোট্রো রেলল সহ একাধিক বিভাগে মাদ্রাসা পড়ুয়ারা আবেদন করেছিল এবং চাকরিও পেয়েছে অনেকেই। এমনকি ডাক বিভাগেও চাকরি পেয়েছিল অনেকেই। কিন্তু বর্তমানে কেন্দ্রের এই সিদ্ধান্তে গ্রামীন ডাক বিভাগে নিয়োগ নিয়ে কোনও চক্রান্ত চলছে কিনা, সেই বিষয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। তবে এই সমমস্যার দ্রুত সমাধান হবে বলে আশাবাদী পর্ষদের সভাপতি আবু তাহের কামরুদ্দিন।

 

 


শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সম্পর্কিত নিবন্ধ

Leave a Comment