পঞ্চায়েত সংবাদ 

কোনও নির্দল প্রার্থীকে ভোট নয়, ভোট দিন জোড়া ফুল চিহ্নে- নির্বাচনী প্রচারে আবেদন ফিরহাদের

শেয়ার করুন
  • 1
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

শেখ মিজানুর রহমান

আজ কলকাতা হাইকোর্টে পঞ্চায়েত নির্বাচনের দিনক্ষণ নিয়ে রায় ঘোষণা হওয়ার কথা রয়েছে। কিন্তু কমিশনের পূর্বনির্ধারিত সূচি অনুযায়ী ১৪ মে নির্বাচন হচ্ছে বলে ধরে নিয়ে নির্বাচনী প্রচারে ঝাঁপিয়ে পড়েছে শাসক ও বিরোধী সব পক্ষই। সোমবার উত্তর ২৪ পরগনার ৩৬ নম্বর জেলা পরিষদ আসনে দলীয় প্রার্থী একেএম ফারহাদ, ৩৭ নম্বর আসনে ঊষা দাস ও ৩৮ নম্বর আসনে দলীয় প্রার্থী রহিমা মন্ডলের সমর্থনে দেগঙ্গা প্রচারে গিয়ে ছিলেন রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম।

পুরমন্ত্রী এদিন তাঁর বক্তব্যের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত বাম, কংগ্রেস ও বিজেপিকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন। সেইসঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে পাল্লা দিতে এই তিনটি রাজনৈতিক দল যৌথভাবে নির্দল প্রার্থী দাঁড় করিয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। তাঁর কথায়, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে রাজ্যে যে উন্নয়ন হয়েছে, যত দিন যাচ্ছে, মানুষ তা উপলব্ধি করতে পারছে। যার ফলে রাজ্যের মানুষ পঞ্চায়েত নির্বাচনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাতকে শক্ত করতে অঙ্গীকারবদ্ধ হয়েছে। অন্যদিকে, বাম, কংগ্রেস ও বিজেপি নিজেদের অস্তিত্ব হারিয়ে ফেলছে। কোনওরকমে অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে এরা যৌথভাবে আম, জাম, লিচু ও পটল সহ বিভিন্ন  প্রতীক নিয়ে  নির্দল প্রার্থী দাঁড় করিয়েছে। এগুলো থেকে সতর্ক থাকতে হবে সাধারণ মানুষকে। আসলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে রাজ্যে যে উন্নয়ন হচ্ছে, তা স্তব্ধ করে দিতে ও সাম্প্রদায়িক দল বিজেপিকে বাংলায় ঠাঁই করে দিতেই নির্দল প্রার্থী দাঁড় করানো হয়েছে। রাজ্যের মানুষের কাছে ফিরহাদের আবেদন, বাংলায় শান্তি ও সম্প্রীতি বজায়় রাখতে কোন নির্দল প্রার্থীকে ভোট নয়, ভোট দিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতীক জোড়া ফুল চিহ্নে।

নির্বাচনী প্রচারে অংশগ্রহণকারী জনগণের একাংশ

 

বিরোধীদের আক্রমণ করে ফিরহাদ বলেন, বিরোধীরা মানুষের উন্নয়ন নিয়ে কিছু ভাবছে না।তাদের কাজ, দিনের বেলায় হাইকোর্টে যাওয়া ও রাতের বেলায় কোন সংবাদমাধ্যমের চ্যানেলে গিয়ে ভাষণ বাজী করা। রাজ্যের দু-এক জায়গায় বিক্ষিপ্ত গন্ডগোল হলেও বিরোধী নেতারা সংবাদ মাধ্যমের চ্যানেলে বসে এমন ভাব দেখাচ্ছেন, যাতে মনে হচ্ছে  রাজ্যের সর্বত্র যেন বিশৃঙ্খল পরিবেশ তৈরি হয়েছে। বিরোধীদের বক্তব্য, ৩৭ শতাংশ আসনে নাকি তাদের প্রার্থী দিতে দেওয়া হয়নি। পুরমন্ত্রী বলেন, তা নয়। আসলে বিরোধীরা প্রার্থী দেওয়ার লোক খুঁজে পাইনি। রাজ্যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে যে উন্নয়ন হয়েছে, মুখ্যমন্ত্রী কন্যাশ্রী, রূপশ্রী, সবুজ- সাথী, খাদ্যসাথী সহ যে সব প্রকল্প চালু করেছেন তাকে সমর্থন করছে  রাজ্যের সর্বস্তরের মানুষ। তাই অস্তিত্ব সংকটের মধ্যে পড়ে বিরোধীরা এই ধরনের মন্তব্য করছে। বিরোধীদের এই ধরনের বিভ্রান্তিকর মন্তব্যকে পাত্তা না দেওয়ার আরজি জানিয়েছেন ফিরহাদ।

এদিনের নির্বাচনী জনসভায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, হাড়োয়ার বিধায়ক হাজী নুরুল ইসলাম, দেগঙ্গার বিধায়ক তথা ৩৮ নম্বর জেলা পরিষদ আসনের তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী রহিমা মন্ডল ৩৬ নম্বরের তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী একেএম ফারহাদ, দেগঙ্গা ব্লক সভাপতি মফিদুল হক সাহাজি, দেগঙ্গায় দলীয় পর্যবেক্ষক নারায়ণ সাহা, জেলা নেতৃত্ব রিঙ্কু দে দত্ত প্রমুখ।

 


শেয়ার করুন
  • 1
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সম্পর্কিত নিবন্ধ

Leave a Comment