কলকাতা 

“যারা দেশের নিরাপত্তা বাহিনীর কাজ নিয়ে প্রশ্ন তুলে পিছন থেকে ছুরি মারার চেষ্টা করেন তাদের ছুঁড়ে ফেলে দেওয়া উচিত ’’ কাকে উদ্দেশ্য করে এমন মন্তব্য করলেন সব্যসাচী ? তবে অর্জুনের পর …?

শেয়ার করুন
  • 1
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

বাংলার জনরব ডেস্ক : হিন্দিভাষীদের হোলি উৎসবে সামিল হয়ে সব্যসাচী দত্ত বললেন ‘জয় ভারত, ভারত মাতা কি জয়৷ আমি মেয়র থাকি না থাকি ,আমি এমএল-এ থাকি না থাকি, আপনাদের সঙ্গে আমি আছি এবং থাকব ৷ আজ বিধাননগরে মাড়োয়ারিদের এক হোলি উৎসবে সামিল হয়ে একথা বললেন মেয়র ও তৃণমূল বিধায়ক সব্যসাচী দত্ত । আসলে সব্যসাচী বলেই প্রশ্নটা উঠছে না হলে হয়তো বিষয়টিকে তেমন আমল দেওয়া হত না । ভারত মাতা কি জয়  বলার মধ্যে কোনো ভুল বা অপরাধ নেই । কিন্ত তৃণমূল নেতারা সাধারন এধরনের কথা বলেন না । বরং এই শ্লোগানকে বিজেপি হাইজ্যাক করে নিয়েছে । তাই সব্যসাচীর এই বক্তব্যের পরেই প্রশ্ন হয়ে উঠেছে তাহলে অর্জুনের এবার কী সব্যসাচী গেরুয়া শিবিরে নাম লেখাতে যাচ্ছেন । শুধু তাই এদিনে উৎসবে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি সরাসরি নাম না করে দলনেত্রীর সমালোচনা করেছেন ।

এদিন বিধাননগরে মাড়ওয়ারি সমাজের অনুষ্ঠানে গিয়েছিলেন মেয়র৷ সেখানেই তিনি পুলওয়ামার শহিদ জওয়ানদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, ‘‘দেশের যখন রঙের উৎসব চলছে তখন অন্ধকারে পুলওয়ামার শহিদ জওয়ানদের পরিবার৷ এটা সবসময় মনে রেখে উৎসব পালন করা উচিত৷ যারা দেশের নিরাপত্তা বাহিনীর কাজ নিয়ে প্রশ্ন তুলে পিছন থেকে ছুরি মারার চেষ্টা করেন তাদের ছুঁড়ে ফেলে দেওয়া উচিত৷’’

তাঁর মন্তব্য ঘিরে বাড়ছে দল বদলের জল্পনা৷ তারই মাঝে এয়ার স্ট্রাইক নিয়ে দল নেত্রীর উল্টো সুরে কথা বললেন বিধাননগরেরব মেয়র সব্যসাচী দত্ত৷ যাকে কেন্দ্র করে রঙের উৎসবের দিন সব্যসাচীর পতাকার রং বদলের ইঙ্গিত আরও গভীর হল৷

সব্যসাচী তাঁর মন্তব্যের মাধ্যমে কী তৃণমূল সুপ্রিমোকে নিশানা করতে চাইলেন? পুলওয়ামার হামলার পর পাকিস্তানকে উচিত জবাব দিতে এয়ার স্ট্রাইক করে ভারতীয় বায়ু সেনা৷ দাবি করা হয় পাক ভূমিতে ঢুকে জঙ্গি সংগঠন জইশ ই মহম্মদের ঘাঁটি গুঁড়িয়ে দিয়েছে ভারতীয় বায়ু সেনার জওয়ানরা৷ তাতেই নিহত প্রায় তিনশো জঙ্গি৷

আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যম অবশ্য ভারতের এই দাবির সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে৷ যাকে পুঁজি করে মোদী সরকারকে বিঁধতে শুরু করেন কংগ্রেস, তৃণমূল সহ দেশের বিজেপি বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো৷ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘‘দেশের নিরাপত্তা বাহিনীকে নিয়ে রাজনীতি করছে মোদী সরকার৷ যা দুর্ভাগ্যজনক৷’’ শুরু হয় শাসক-বিরোধী তরজা৷

সম্প্রতি বিজেপি নেতা মুকুল রায় তাঁর বাড়িতে গিয়েছিলেন । তা নিয়ে অস্বস্তিতে পড়ে যায় তৃণমূল নেতৃত্ব । এতে অসন্তুষ্ট হন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর নির্দেশে বসে দলীয় বৈঠক৷ সেখানে অবশ্য সব্যসাচী দত্ত বলেন, ‘‘দলে ছিলাম, আছি, থাকবো৷’’ কিন্তু তার পরেও থামেনি বিতর্ক৷ দিন কয়েক আগেই বারাসত আদালতে গিয়ে জল্পনা বাড়িয়ে সব্যসাচী দত্ত বলেছিলেন, ‘‘যে কেউ বাড়িতে এলেই আমার বাড়িতে লুচি আলুর-দম খেতে পাবেন৷ শুধু বানানোর সময় দিতে হবে৷’’ এরপরই বারাসতের বিদায়ী সাংসদ কাকলী ঘোষ দস্তিদারের ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য, ‘‘উনি কি মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেছেন?’’

এদিনের সভায় তাঁর ব্ক্তব্যে বলেন ,মেয়র বা এমএলএ হয়ে জন্মায়নি৷ মেয়র বা এমএলএ হয়ে মরব না৷ কেন তিনি একথা বললেন ? তিনি তো এখন এমএলএ ও মেয়র পদে আছেন৷ তবে কী অর্জুনের পর এবার সব্যসাচীও গেরুয়ামুখী । শোনা যাচ্ছে তাঁর আসার জন্যই নাকি এখনও প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করেনি বিজেপি ।


শেয়ার করুন
  • 1
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সম্পর্কিত নিবন্ধ

Leave a Comment