কলকাতা 

অধীর চৌধুরির কাছে হেরে গেলেন সোমেন মিত্র

শেয়ার করুন
  • 202
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সেখ ইবাদুল ইসলাম : অধীর চৌধুরিকে কংগ্রেসে এনেছিলেন সোমেন মিত্র । সোমেন মিত্রের আশ্রয়ে অধীর চৌধুরি মুর্শিদাবাদ জেলা কংগ্রেসের প্রাণ-পুরুষে পরিণত হয়েছিলেন । এটা জলের মত স্বচ্ছ । সেই অর্থে কংগ্রেস দলে অধীরের গুরু হচ্ছেন সোমেন মিত্র । এই কথা হয়তো স্বয়ং অধীর চৌধুরিও অস্বীকার করবেন না। সোমেন মিত্র তৃণমূলে চলে যাওয়ার কারণে তিনি অনেকটাই ব্যকফুটে চলে যান ।  ২০১৪ সালে সোমেনবাবু আবার কংগ্রেসে ফিরে আসেন । তারপরেই পশ্চিমবাংলা কংগ্রেসের সভাপতি হন অধীর চৌধুরি । অভিযোগ অধীর চৌধুরি সভাপতি হওয়ার পর সোমেন মিত্রের ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত কংগ্রেস নেতারা এক ঘরে হয়ে যান । সেই ক্ষোভ কোথাও না কোথাও দানা বেধে ছিল । এই প্রতিবেদকের মনে হয়েছিল সোমেন মিত্র প্রদেশ কংগ্রেসের সভাপতি হলে হাল ফিরবে কংগ্রেসের ।

তাঁর ঘনিষ্ঠ সহযোগী সরদার আমজাদ আলীর ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় শেষ পর্যন্ত এআইসিসি লোকসভা নির্বাচনের আগে সোমেন মিত্রকেই প্রদেশ কংগ্রেসের দায়িত্ব দেন । তবে দায়িত্ব নেওয়ার পর তাঁর যতটা কঠোর অবস্থান নেওয়ার প্রয়োজন ছিল ততটা কঠোর অবস্থান তিনি প্রথম থেকেই নেননি । তিনি মূলত রাজ্য কংগ্রেসের শিকড়হীন দুই রাজনীতিবিদ আবদুল মান্নান ও প্রদীপ ভট্টাচার্যের পরামর্শে চলতে গিয়ে কংগ্রেস দল শুধু সাইনবোর্ডে নয় এবার যে উঠে যেতে যে বসেছে তা এখন থেকেই বলে দেওয়া যায় ।

অথচ অধীর চৌধুরি ২০১৬ সালে বিধানসভা নির্বাচনে বামেদের সঙ্গে জোট করেছিলেন । সেই জোট এতটাই মসৃণভাবে হয়েছিল যা নিয়ে কারও কোনো অভিযোগ ছিল না । ভোটের পর লাভ হল কার কংগ্রেসের । কংগ্রেস বিরোধী দলের মর্যাদা পেল । সিপিএম চলে গেলে তৃতীয় স্থানে । তাই জোটে যাওয়ার আগে এসব দিকগুলিকে সোমেন মিত্রের দেখা উচিত ছিল । মনে রাখতে হবে যে , এই সময় রাজ্যের দলিত ও সংখ্যালঘু মুসলিমদের বড় অংশ কংগ্রেসের দিকে ঝুকে ছিল । তাদের প্রতি আস্থা দেখিয়ে বাম-কংগ্রেস জোট জরুরি ছিল । কিন্ত তা সম্ভব হল না শুধু মাত্র কয়েকজনের ব্যক্তি স্বার্থকে চরিতার্থ করতে গিয়ে । অন্যদিকে গত বিধানসভা নির্বাচনে কংগ্রেস ও বামেদের সঙ্গে যে জোট হয়েছিল তাতে মতান্তর ছিল , কিন্ত অধীর চৌধুরি সেই জোট ভেঙে দেননি । বরং তিনি শেষ দিন পর্যন্ত জোটের জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করে গেছেন ।

এখানেই অধীর চৌধুরি প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি হিসেবে নিজেকে গ্রহণযোগ্য করে তুলতে সক্ষম হয়েছিলেন । কিন্ত সোমেন মিত্র পারলেন না । কেন পারলেন ? সেই সব হিসেবে নিকেশের বাইরে গিয়ে স্পষ্ট ভাষায় বলতে হয় সোমেন মিত্রের দুর্দিনে যাঁরা তাঁর সঙ্গী ছিলেন তাঁদেরকে যথাযথ গুরুত্ব দিলে রাজ্য কংগ্রেসের এই ওয়াটালুর দেখতে হত না । বামেদের সঙ্গে আলোচনার জন্য প্রতিনিধি হিসেবে সরদার আমজাদ আলী কিংবা সোমেন মিত্রকে ভালোবাসেন এমন কোনো ব্যক্তিকে দায়িত্ব দিলে আর যাইহোক বাম-কংগ্রেস জোট ভেঙে যেত না ।

কংগ্রেস নেতারা বলছেন তারা নাকি একাই ৪/৫ টি আসন পেয়ে যাবেন । আমার মতে অধীর চৌধুরি নিজস্ব ক্যারিসিমায় জিততে পারেন , বরকত গণি খানের ইমেজকে কাজে লাগিয়ে আবু হাসেম খান চৌধুরি জিতলেও জিততে পারেন । এর বাইরে আর কোনো কংগ্রেস নেতার জেতার স্বপ্ন দেখাটা অবাস্তব কল্পনা ছাড়া আর কিছুই নয় । আর লোকসভা ভোটের পরেই প্রদেশ কংগ্রেসে সোমেন মিত্রকে সরানোর দাবি উঠবে । আর এই দাবির পক্ষে নেতৃত্ব দেবেন তারাই যাঁরা কলকাঠি নেড়ে বাম-কংগ্রেসের জোট ভেঙে দিলেন । এই প্রসঙ্গে বলা রাখা উচিত , উত্তরবঙ্গের যে নেত্রীটি রায়গঞ্জ পুরসভাকে দখলে রাখতে পারেননি তিনি লোকসভায় জিতবেন এই দাবি আষাঢ়ে গল্প ছাড়া কিছুই নয় । বাম-কংগ্রেস জোটে ভেঙে দিয়ে সোমেন মিত্ররা আসলে এই রাজ্যের তৃণমূল ও বিজেপি বিরোধী সাধারন মানুষের সঙ্গেই প্রতারনা করলেন ।


শেয়ার করুন
  • 202
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সম্পর্কিত নিবন্ধ

Leave a Comment