কলকাতা 

তৃণমূল ভেঙে আসবে আরও হেভিওয়েটরা সেই আশায় প্রহর গুনছে বিজেপি নেতৃত্ব !

শেয়ার করুন
  • 1
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

বাংলার জনরব ডেস্ক : তৃণমূল কংগ্রেস রাজ্যের ৪২টি আসনের প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করে দিয়েছে । রাজ্যের বিরোধী দলগুলির মধ্যে বামফ্রন্ট গতকাল ২৫ টি আসনে প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করেছে । কিন্ত কেন্দ্রের শাসক দল বিজেপি এখনও প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করতে পারেনি । বরং তারা এখন এই রাজ্যের তৃণমূল কংগ্রেস ও কংগ্রেস দলকে ভাঙার চেষ্টা করে যাচ্ছে ।

এবার ১০জন সাংসদ তৃণমূলের টিকিট পাননি । এই ক্ষোভের দলের মধ্যে রয়েছে । আবার এমন কয়েকটি জেলা রয়েছে যেখানে জেলা নেতৃত্ব সেই প্রার্থীকে পচ্ছন্দ করছে না । তবু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাকে প্রার্থী করেছেন । এর ফলে অসন্তোষ চরমে পৌছে গেছে । আর এই ক্ষোভকে কাজে লাগিয়ে তৃণমূলের বেশ কয়েকজন ইতিমধ্যেই বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন ,আরও বেশ কয়েকজন তৃণমূল নেতা যোগ দিতে পারেন বিজেপিতে। যোগদানকারীদের ব্যারাকপুরের অর্জুন সিং তিনি ওই এলাকায় যথেষ্ট সাংগঠনিক দিক থেকে প্রভাবশালী।

দলের প্রতি ওই সমস্ত তৃণমূল নেতার অসন্তোষকে কাজে লাগিয়ে সংগঠন শক্তিশালী করার সুযোগও হাতছাড়া করছেন না এক সময় তৃণমূলেনম্বরটুনেতা মুকুল রায়। বর্তমানে তিনি বিজেপির নির্বাচন কমিটির দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা হলেও সমানে যোগাযোগ বজায় রেখে চলেছেন ওই অসন্তুষ্ট তৃণমূল নেতৃত্বের সঙ্গে।

বিজেপির তরফে দাবি করা হয়েছে, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে আর বেশ কয়েক জন তৃণমূল নেতা এবং বিধায়ক গেরুয়া শিবিরে নাম লেখাবেন। এবং তার নেপথ্যে রয়েছে একটিই কারণ। তা হল তৃণমূলের সিদ্ধান্তগ্রহণকারী নেতৃত্বের উপর অভিমান।

দক্ষিণ দিনাজপুরের বালুরঘাট কেন্দ্রে নিচু তলায় ধরা পড়েছে ক্ষোভের আঁচ। কয়েক দিন ধরেই বালুরঘাটের তৃণমূল প্রার্থী হিসাবে সংবাদ মাধ্যমে ঘুরে বেড়িয়েছে জেলা তৃণমূল সভাপতি বিপ্লব মিত্রের নাম। অথচ কিছুটা অবিশ্বাস্য ভাবেই প্রার্থী তালিকায় ফের ঠাঁই পেয়ে যান সাংসদ অর্পিতা ঘোষ। এই নিয়েই সোশ্যাল মিডিয়ায় ক্ষোভ উগরে দিচ্ছেন তৃণমূলের নিচু তলার কর্মীরা। এমনকী সে খবর কানে পৌঁছোনো মাত্রই বিপ্লববাবুও সংবাদ মাধ্যমের কাছে নিজের প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন।

তাঁর বক্তব্যবিদায়ী সাংসদ প্রার্থীকে নিয়ে তাঁর কাছে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন শাসকদলের নিচু তলার কর্মীরা। বিষয়টি দলনেত্রীকেও তিনি জানাবেন।

একই ভাবে কোচবিহার কেন্দ্রে গতবারের জয়ী সাংসদ পার্থপ্রতীম রায়ের পরিবর্তে বার প্রার্থী করা হয়েছে পরেশচন্দ্র অধিকারীকে। যিনি মাত্র বছরখানের আগে তৃণমূলে যোগ দেন। সেই জায়গায় দাঁড়িয়ে পার্থপ্রতীমবাবুকেও কাছে টানতে মরিয়া বিজেপি। যদিও ব্যাপারে তাঁর নিজস্ব মন্তব্য জানা যায়নি।

কিন্তু তৃণমূলের নিচু তলার কর্মীদের অভিযোগ, কোচবিহারে কেন প্রার্থী করা হল পরেশবাবুকে। তাঁদের দলে স্থানীয় স্তরে লোকসভায় প্রার্থী হওয়ার মতো একাধিক যোগ্য নেতা আছেন। এই সিদ্ধান্তে দলের নিচু তলায় অন্য বার্তা পৌঁছেছে।

প্রার্থী নিয়ে অসন্তোষের ছবি ধরা পড়েছে মুর্শিদাবাদ কেন্দ্রেও। স্থানীয় তৃণমূলের একাংশের দাবি, ওই কেন্দ্রে প্রার্থী হওয়ার যোগ্যতা রয়েছে দলের অনেকেরই। যাঁদের মধ্যে সৌমিক হোসেন অগ্রাধিকার পেতেই পারতেন। কিন্তু সে সব কথা না ভেবে বছরখানেক আগে কংগ্রেস থেকে তৃণমূলে যোগ দেওয়া আবু তাহেরকে ওই কেন্দ্রে প্রার্থী করা হয়েছে । আসলে মুর্শিদাবাদে প্রার্থী মনোনয়নকে কেন্দ্র করে দলীয় অসন্তোষের কারণেই এই জেলায় তৃণমূল ভালো নাও হতে পারে বলে রাজনৈতিক মহল মনে করছে।


শেয়ার করুন
  • 1
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সম্পর্কিত নিবন্ধ

Leave a Comment