দেশ 

শিক্ষক ঐক্য মঞ্চের দাবি মেনেই ভোট কর্মীদের সুরক্ষার স্বার্থে অ্যাপ তৈরি করছে কমিশন , এক ক্লিকেই অভিযোগ যাবে সরাসরি কমিশনে , ভোটকর্মী থেকে শুরু করে ভোটারও অভিযোগ জানাতে পারবে

শেয়ার করুন
  • 3
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

বাংলার জনরব ডেস্ক : রিগিং, ছাপ্পা কিংবা বুথজ্যাম। নির্বাচনের দিন বুথের মধ্যে কোনও অশান্তির ঘটনার উপর নজরদারি চালানোর জন্য এবার নির্বাচন কমিশন অ্যাপ তৈরি করতে চলেছে । এই অ্যাপ চালূ হলে শুধু মাত্র আঙুলের ছাপেই সরাসরি রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিককে অভিযোগ করতে পারবে প্রিসাইড়িং অফিসার । এমনকি ভোটাররাও । গত পঞ্চায়েত নির্বাচনের সময় কয়েকজন প্রিসাইডিং অফিসারকে হেনস্থা হতে হয়েছিল । এমনকি রাহাতপুর হাইমাদ্রাসার ইংরেজির শিক্ষক রাজকুমার রায়কে খুন করা হয়েছিল বলে অভিযোগ ওঠে । এই প্রেক্ষাপটে শিক্ষক ঐক্য মঞ্চের পক্ষ থেকে নির্বাচন কমিশনের কাছে দরবার করে বলা হয় , যথেষ্ট নিরাপত্তার ব্যবস্থা না করলে তাদের পক্ষে ভোটের ডিউটি করা সম্ভব হবে না। ওই দাবিপত্রে আরও বলা হয় নির্বাচন চলাকালীন সময়ে সেক্টর অফিসার কিংবা রিটার্নিং অফিসারের কাছে কোন অনিয়ম নিয়ে অভিযোগ করা হলে অনেক সময় তা হিতে বিপরীত হয় । এই পরিস্থিতি যাতে সরাসরি নির্বাচন কমিশনার কিংবা রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিককে অভিযোগ জানানো যায় তার সুব্যবস্থা করতে হবে ।

শিক্ষক ঐক্য মঞ্চের দাবি মেনে শেষ পর্যন্ত এমনকি একটি অ্যাপ আনছে নির্বাচন কমিশন যাতে আঙুল ছোয়ানোর সঙ্গে সঙ্গে মুহূর্তের মধ্যে খবর চলে যাবে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের (CEO)অফিসে। এজন্য প্রিসাইডিং অফিসারের আঙুলের একটা ক্লিকই যথেষ্ট। তেমনই একটি অ্যাপ আনছে এই রাজ্যের মুখ্য নির্বাচন আধিকারিকের দপ্তর। যার মাধ্যমে আপদকালীন পরিস্থিতিতে কী ধরনের ঘটনা ঘটছে, প্রিজ়াইডিং অফিসার তা মুহূর্তের মধ্যে জানাতে পারবেন মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দপ্তরে। পাশাপাশি বুথ স্তরের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ রাখার জন্য একটি অ্যাপ আনছে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দপ্তর। যার মাধ্যমে বুথ স্তরের ভোট কর্মীরা সরাসরি যোগাযোগ করতে পারবেন মুখ্য নির্বাচন আধিকারিকের দপ্তরে। দিতে পারবেন রিপোর্ট। জানাতে পারবেন অভিযোগও। রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দপ্তর সূত্রে এমন খবরই মিলেছে। শুধুমাত্র SMS বেসড ভোট মনিটরিং সিস্টেমের উপর ভরসা রাখতে চাইছে না দপ্তরের কর্তারা। সেটিও অ্যাপ তৈরির অন্যতম কারণ বলে সূত্রের খবর।

জানা গেছে ,শিক্ষক সংগঠনের দাবি পেশের বহু আগে থেকেই চলছে অ্যাপ তৈরির পরিকল্পনা। প্রাক্তন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার ওমপ্রকাশ রাওয়াত ভেবে দেখবেন বলে জানিয়েছিলেন। তখন থেকেই শুরু হয়ে যায় পরিকল্পনা। আসলে অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, SMS বেসড ভোট মনিটরিং সিস্টেম ১০০ শতাংশ কার্যকরী হয় না। ফলে ভোটের শতাংশের হিসেব আসতেও সমস্যা হয়ে যায় অনেক সময়। নানা সমস্যার কারণে অনেক সময় প্রিসাইডিং অফিসারের SMS মুখ্য নির্বাচনী কমিশনের আধিকারিকের দপ্তরে পৌঁছায় না। অনেকক্ষেত্রে প্রিসাইডিং অফিসারের ব্যস্ততার মুহূর্তে SMS টাইপ করার মতো সময় হয় না। তাছাড়া প্রযুক্তির ব্যবহারের ক্ষেত্রে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচন আধিকারিকের দপ্তর কিছুটা এগিয়ে থাকতে চায়। শেষমেশ অ্যাপ তৈরির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এমন কী এই অ্যাপ তৈরিতে কোনও প্রফেশনাল সংস্থার সাহায্য নেয়নি নির্বাচন আধিকারিকের দপ্তরের অফিসাররা। নিজেদের পরিকল্পনা আর নিজেদের প্রযুক্তিতেই বানিয়ে ফেলেছেন সেই অ্যাপ। যা এখন বাস্তব। সূত্রের খবর, জেলাশাসকদের সঙ্গে শেষ বৈঠকে এই অ্যাপটি দেখানো হয়েছে তাদের। জেলাশাসকরা এই উদ্যোগের প্রশংসা করেছেন বলে খবর।

 


শেয়ার করুন
  • 3
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সম্পর্কিত নিবন্ধ

Leave a Comment