কলকাতা 

আন্দোলনের চাপেই কি রাজ্য সরকার এমএসকে-এসএসকে-র বেতন বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিতে চলেছে ?

শেয়ার করুন
  • 2
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

বাংলার জনরব ডেস্ক : পশ্চিমবঙ্গের এস এস কে ও এম এস কে শিক্ষক শিক্ষিকারা সল্টলেকের বিধান মূর্তির পাদদেশে ধর্ণায় বসেছেন৷ সেই ধর্না মঞ্চে সোমেন মিত্র যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরেই সরকার অবস্থান পাল্টে জানিয়ে দেয় ; আন্দোলনকারীদের বেতন বাড়ানোর সিদ্ধান্ত খুব তাড়াতাড়ি নেওয়া হবে । আর এটাই আন্দোলনকারী প্রধান দাবি । এই দাবি মেনে নেওয়ার পরেই শাসক দলের সংগঠন আন্দোলন প্রত্যাহার করে নেয় । অনিদিষ্টকালের জন্য  এই ধর্ণা কর্মসুচিতে রাজ্যের ‍বিরোধী দলের নেতারা উপস্থিত ছিলেন । ধর্নার পঞ্চম দিনে গিয়েছিলেন কংগ্রেস নেতা সোমেন মিত্র ও সিপিএমের সম্পাদক সূর্যকান্ত মিশ্র । সোমেন মিত্র ও সূর্যকান্ত মিশ্র মঞ্চে আসার কিছুক্ষণ আগেই আন্দোলনকারী দুভাগে ভাগ ভাগ হয়ে যান । একটি শাসক দলের সংগঠন ও অন্যটি শাসক বিরোধী সংগঠন৷ পৃথক পৃথক ভাবে তারা রাস্তার দু’পাশে আন্দোলন শুরু করে৷ মাঝখানে ছিল বিশাল পুলিশ বাহিনী৷

শাসক দলের সংগঠন ও শাসক বিরোধী সংগঠন মিলিতভাবে যৌথভাবেই আন্দোলনে নামে৷ কিন্তু বিরোধী দলনেতারা ধর্ণা মঞ্চে আসা শুরু করতেই শাসক দলের সংগঠনের শিক্ষক শিক্ষিকা ও সুপারভাইজাররা আলাদা হয়ে যায়৷ তারা তৃণমূলের দলীয় পতাকা নিয়ে সেন্ট্রাল পার্কের সামনে অবস্থান শুরু করে৷

অন্যদিকে রাস্তার উলটো দিকে সল্টলেক ওয়াই চ্যানেলে অবস্থান ও ধর্ণায় শাসক বিরোধী সংগঠনের শিক্ষক শিক্ষিকা ও সুপারভাইজাররা৷ আন্দোলনে উত্তাল হয়ে ওঠে সল্টলেক৷ মোতায়েন করা হয় র‌্যাফ ও বিশাল পুলিশ বাহিনী৷ মোতায়েন ছিল মহিলা পুলিশও৷ বন্ধ করে দেওয়া হয় করুণাময়ী থেকে বিকাশ ভবনগামী উভয় রাস্তা৷ করুণাময়ী মোড়, পূর্তভবন মোড়, বিকাশ ভবন ও আরক্ষা ভবনের কাছ থেকে যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হয়৷ দুর্ভোগে পড়েন সাধারণ মানুষ৷
শাসক দলের সংগঠনের একটি প্রতিনিধি দল বিকাশ ভবনে শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের কাছে যান৷ সেখানে তারা তাঁকে একটি স্বারকলিপি জমা দেন৷পশ্চিমবঙ্গ তৃণমূল এস এস কে ও এম এস কে টিচার্স অ্যান্ড একাডেমিক সুপারভাইজার ঐক্য মঞ্চের সভাপতি মোকলেশ রহমান বিশ্বাস জানান, শিক্ষামন্ত্রী আমাদের বলেছেন যে, বেতন বৃদ্ধির বিষয়ে মঙ্গলবারই অর্থ দফতরে ফাইল যাচ্ছে৷ এরপর শাসক দলের সংগঠনের আন্দোলনরত শিক্ষক শিক্ষিকা ও সুপারভাইজাররা তাদের আন্দোলন প্রত্যাহার করে নেয়৷ যদিও শাসক বিরোধী সংগঠনের আন্দোলন চলছে৷

যে সব দাবিতে এই ধর্ণা তা হল, ২০১৩ সালের মন্ত্রীসভার সিদ্ধান্ত অনুসারে শিশু শিক্ষা কেন্দ্র, মাধ্যমিক শিক্ষা কেন্দ্র কে প্রাথমিক ও মধ্যশিক্ষা পর্ষদের অধীনে অনুমোদন দিতে হবে৷ এবং শিক্ষাদপ্তরকে পুরোপুরি দায়িত্ব তুলে নিতে হবে৷ সমগ্র শিক্ষা অভিযানের নিয়ম অনুযায়ী শিশু শিক্ষা, মাধ্যমিক শিক্ষা কেন্দ্রের শিক্ষক শিক্ষিকা ও সুপারভাইজারদের ২০১৮ সালের ১ এপ্রিল থেকে বেতন বৃদ্ধি কার্যকর করতে হবে এবং বেতন পরিকাঠামো চালু করতে হবে৷

শিক্ষক শিক্ষিকা ও সুপারভাইজারদের পেনশন ব্যবস্থা চালু করতে হবে৷ এস এস কে,এম এস গুলিকে নবম ও দশম শ্রেণী খোলার ব্যবস্থা করতে হবে৷ সমস্ত শিক্ষক শিক্ষিকাদের নিয়োগের অনুমোদন কর্মসংস্থান পরিচয়পত্র দিতে হবে৷ অবিলম্বে শূণ্যপদে নিয়োগের ব্যবস্থা করতে হবে৷

এই ধর্না মঞ্চে বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ, সিপিএম বিধায়ক সুজন চক্রবর্তী সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা গিয়েছিলেন । কিন্ত মঙ্গলবার সোমেন মিত্র ওই ধর্না মঞ্চে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরেই পরিস্থিতি বদলে যায় বলে জানা গেছে । বিকাশ ভবনের পক্ষ থেকে সঙ্গে তৃণমূল প্রভাবিত এসএসকে ও এমএসকে সংগঠনের নেতাদের সঙ্গে শিক্ষামন্ত্রী দেখা করেন এবং বেতন বাড়ানোর সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে দেন । এরপরেই তৃণমূল প্রভাবিত ওই সংগঠনটি আন্দোলন প্রত্যাহার করে নেয় । তবে শাসক দল বিরোধী সংগঠনটি এখনও আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন ।

 

 


শেয়ার করুন
  • 2
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সম্পর্কিত নিবন্ধ

Leave a Comment