কলকাতা 

সিদ্ধার্থ শংকর রায়ের স্বদিচ্ছা ছিল , তাই তিনি এ রাজ্যের সংখ্যালঘু মানুষদের চোখের মণি হয়ে উঠতে পেরেছিলেন ; আর তার জন্য তাঁকে কোনওদিন  সাদা চাদর জড়িয়ে ‘ ইনশাল্লাহ ‘ মাসাল্লাহ বলে ভড়ং করতে হয়নি ; সংখ্যালঘু উন্নয়ন প্রশ্নে নাম না করে মমতাকে তোপ সোমেনের

শেয়ার করুন
  • 42
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

পশ্চিমবাংলার সংখ্যালঘুদের উন্নয়নে ৯৯% কাজ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকার করে দিয়েছেন বলে মুখ্যমন্ত্রী দাবি করে থাকেন । সেই দাবিকে মান্যতা দিতে রাজি নয় ; রাজ্যের বিরোধী দলগুলি । সম্প্রতি প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি সোমেন মিত্র কংগ্রেস বার্তায় একান্ত সাক্ষাৎকারে সংখ্যালঘুদের উন্নয়নের প্রশ্নে রাজ্য সরকার পুরো ব্যর্থ বলে দাবি করেছেন । কংগ্রেস বার্তার সাক্ষাৎকারটি বাংলার জনরব পাঠকের জন্য তুলে ধরা হল । এই সাক্ষাৎকারটি চারটি কিস্তিতে প্রকাশ করা হবে । আজ দ্বিতীয় কিস্তি । সাক্ষৎকারটি নিয়েছেন অশোক ভট্টাচার্য।

প্রশ্ন : এ রাজ্যের সংখ্যালঘু মানুষেরা আজও সিদ্ধার্থশংকর রায়ের নেতৃত্বাধীন কংগ্রেস সরকারের ভূমিকার কথা কৃতঞ্জতাচিত্তে স্মরণ করেন , এর কারণ কী বলে আপনার মনে হয় ?

সোমেন মিত্র : দেখুন , সংখ্যালঘু উন্নয়ণ , সংখ্যালঘু মানুষদের শিক্ষা , কর্মসংস্থান এবং জীবন-জীবিকার নিরাপত্তার বিষয়ে সিদ্ধার্থ শংকর রায়ের নেতৃত্বাধীন কংগ্রেস সরকার যে ইতিবাচক ভূমিকা ‍নিয়েছিল আজকের দিনে খুব স্বাভাবিকভাবেই সেই প্রসঙ্গ চলে আসবেই । একটা তথ্য আপনাদের সামনে তুলে ধরছি — সিদ্ধার্থ শংকর রায় মন্ত্রীসভায় মোট ৩০ জন মন্ত্রীর মধ্যে  সংখ্যালঘু মুসলিম ছিলেন ৫ জন । সকলেই ছিলেন গুরুত্বপূর্ন দফতরের মন্ত্রী , এমনকি স্বরাষ্ট্র দফতরের রাষ্ট্রমন্ত্রীও ছিলেন একজন। যা তারপরে কোনওদিন হয়নি । বর্তমানে তৃণমূল সরকারে মোট ৪৪ জন মন্ত্রীর মধ্যে ৭ জন সংখ্যালঘু  সমাজ থেকে এসেছেন , আবার এই সাতজনের মধ্যে ৪ জনই রাষ্ট্রমন্ত্রী ।অর্থাৎ মন্ত্রীসভায় সংখ্যালঘুদের গুরুত্ব এবং শতাংশের হার দুটোই কমে গেছে । যেখানে বাড়ার কথা ছিল । রাজ্যে মোট ১৩ জন রাজ্যসভার সাংসদ আছেন তৃণমূলের । তার মধ্যে সংখ্যালঘু মুসলিম মাত্র দুজন ।

রাজ্যের ২৩ টি জেলার মধ্যে মাত্র ১টি ( মালদা) -তে তৃণমূল জেলা সভাপতি হলেন সংখ্যালঘু মুসলিম ।অর্থাৎ ,রাজনৈতিকভাবেই তৃণমূল  প্রকৃতপক্ষে এই রাজ্যের সংখ্যালঘুদের ব্রাত্য করে রেখেছে । উত্তরদিনাজপুর , মালদা , মুর্শিদাবাদ জেলায়  সংখ্যালঘু মুসলিমরাই সংখ্যায় বেশি অথচ ৩টি জেলায় কোনও পূর্ণমন্ত্রী নেই । আবার মালদা জেলাতে তো কোনও মন্ত্রীই নেই । রাজ্যের মানুষ জানেন , কংগ্রেস সরকারের আমলে বরকত গনি খান চৌধুরি, আবদুস সাত্তারের মতে বিচক্ষণ রাজনীতিবিদরা মন্ত্রীসভায়  ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় ছিলেন । মালদা জেলাতে ৮ জন বিধায়ককে অনৈতিকভাবে নিজেদের দলে নিয়েছে তৃনমূল । তাঁদের একজনও কেন মন্ত্রীসভায় ঠাঁই পেলেন না ? এই প্রশ্ন তৃণমূল এড়িয়ে যেতে পারবে না । আসলে দরকার হল , স্বদিচ্ছা ও আন্তরিকতা । প্রয়াত সিদ্ধার্থ শংকর রায়ের সেই স্বদিচ্ছা ছিল , তাই তিনি এ রাজ্যের সংখ্যালঘু মানুষদের চোখের মণি হয়ে উঠতে পেরেছিলেন । আর তার জন্য তাঁকে কোনওদিন  সাদা চাদর জড়িয়ে ‘ ইনশাল্লাহ ‘ মাসাল্লাহ বলে ভড়ং করতে হয়নি ।

কৃতঞ্জতা স্বীকার : ড. আবদুস সাত্তার ।


শেয়ার করুন
  • 42
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সম্পর্কিত নিবন্ধ

Leave a Comment