কলকাতা 

তৃণমূল সরকারের আমলে একটি মাদ্রাসাও সরকারী অনুমোদন কেন পেল না তা নিয়ে কলকাতা হাইকোর্টে জনস্বার্থে মামলা দায়ের আইনজীবী আবু সোহেলের

শেয়ার করুন
  • 693
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

বুলবুল চৌধুরি :  বাম আমলে ছিল মোট ৬১৪টি সরকারী সাহায্যপ্রাপ্ত মাদ্রাসা । ২০১১ সালে বামফ্রন্ট সরকার বিদায় নেওয়ার পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে তৃণমুল কংগ্রেস ক্ষমতায় আসে । সেই তৃনমূল সরকারের সময়ও দুদফা মিলিয়ে প্রায় আট বছর হতে চলেছে । এই আট বছরের মধ্যে তৃণমূল সরকার দাবি করে থাকে তারা সংখ্যালঘু উন্নয়নে অনেকটাই এগিয়ে । মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেন , সংখ্যালঘুদের ৯৯ শতাংশ কাজ তিনি করে দিয়েছেন । কিন্ত অভিযোগ বিগত আট বছরে একটি মাদ্রাসাকেও সরকারীভাবে অনুমোদন দেওয়া হয়নি ।

অথচ এই রাজ্যে প্রায় ৫০০ টি এমএসকে আছে , ২৯৪টি আন-এডেড মাদ্রাসাও রয়েছে তাদের মধ্যে থেকে কয়েকটিকে কী সরকারী মাদ্রাসার স্বীকৃতি দেওয়া যেত না ? এই প্রশ্ন এখন সংখ্যালঘু সমাজে উঠছে । তাদের দাবি একটি সমাজের উন্নয়নের মূল চাবিকাঠি হল শিক্ষা ও সংস্কৃতিতে সেই সমাজ কতটা এগিয়ে তা দেখেই আসল উন্নয়ন পরিলক্ষিত হয় ।

তাই রাজ্যের এমনও কয়েকটি জায়গা আছে যেখানকার মুসলিম মেয়েরা মাদ্রাসা ছাড়া অন্য কোথাও পড়তে যায় না । তাদের দিকে লক্ষ্য রেখে সরকার নতুন মাদ্রাসা তৈরি করতে পারত কিংবা এমএসকে ও আন-এডেড মাদ্রাসাগুলির মধ্যে যেসব প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেশি সেই সব প্রতিষ্ঠানগুলিকে সরকারী স্বীকৃতি দেওয়া যেত পারত । রাজ্যের সংখ্যালঘু সমাজের এই দাবি আর তাদের সমাজের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই । তা এখন আদালতে দরজায় ইনসাফের প্রত্যাশায় দাঁড়িয়ে গেছে ।

 

কেন তৃণমূল সরকারের আমলে একটা মাদ্রাসাকেও সরকারী স্বীকৃতি দেওয়া হল না । তা নিয়ে এবার কলকাতা হাইকোর্টে জনস্বার্থে মামলা করলেন তরুন আইনজীবী আবু সোহেল । জনাব আবু সোহেল বাংলার জনরবকে এ সর্ম্পকে বলেন , আমরা আশ্চর্য হচ্ছি এটা জেনে যে তৃণমূল সরকার ৮ বছর শাসন করার পরও একটাও মাদ্রাসাকে সরকারী স্বীকৃতি দেওয়া হয়নি । কেন দেওয়া হয়নি ? এটা আমরা জানি না । তবে এই সময়ের মধ্যে রাজ্যের মুসলিম জনসংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে । তাদের পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ বৃদ্ধি পেয়েছে ; সুতরাং পড়ুয়ার সংখ্যা বেড়েছে । তাই স্বাভাবিক নিয়মেই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বাড়ার কথা । কিন্ত বাম আমলে থাকা ৬১৪টি মাদ্রাসার মধ্যে একটি নতুন কোনো মাদ্রাসকে অনুমোদন দেয়নি এই সরকার ।

তাই আমরা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছি । হাইকোর্ট আমাদের আবেদন গ্রহণ করেছে । এবং মাদ্রাসা বোর্ডের কাছে জানতে চেয়েছে এ বিষয়ে তাদের দৃষ্টিভঙ্গি কী ? কেন মাদ্রাসার অনুমোদন হয়নি এই সময় কালের মধ্যে তা হলফনামা দিয়ে জানতে চেয়েছে হাইকোর্ট । একই সঙ্গে আবু সোহেল এও বলেন , কেন্দ্র সরকার মাদ্রাসার আধুনিকীকরণের জন্য সাহায্য দিয়ে থাকে । কিন্ত আমাদের রাজ্য সরকার সেই সাহায্য এখন নিচ্ছে না ।

এতে আন-এডেড মাদ্রাসাগুলির শিক্ষকরা তাদের প্রাপ্য থেকে বঞ্চিত  হচ্ছে । এবিষয়ে আমরা হাইকোর্টের দৃষ্টি আর্কষণ করেছি । এমনকি তথ্য প্রমাণ তুলে দেওয়া হয়েছে যে কেন্দ্র সরকারের উদ্যোগে মাদ্রাসাগুলির উন্নয়নের জন্য যে বৈঠক দিল্লিতে ডাকা হয়েছিল তাতে রাজ্য সরকারে কোনো প্রতিনিধি উপস্থিত হননি ।

তরুণ আইনজীবী আবু সোহেল আরও বলেন , মাদ্রাসার অনুমোদন নিয়ে আমাদের করা জনস্বার্থে মামলাটির পরিপ্রেক্ষিতে হাইকোর্ট মাদ্রাসা বোর্ড সহ সংশ্লিষ্ট সব দফতরকে এবিষয়ে হলফনামা জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে । এটাকে আমরা প্রাথমিক জয় হিসেবে দেখছি । তিনি ক্ষোভের সঙ্গে বলেন , সংখ্যালঘু উন্নয়ন ও মাদ্রাসা শিক্ষা দফতরের মন্ত্রী খোদ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী নিজে তা সত্ত্বে এই দফতেরর উদ্যোগে একটা মাদ্রাসাও নতুন করে অনুমোদন পেল না এটা খুবই বিস্ময়ের এবং দুঃখের ।


শেয়ার করুন
  • 693
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সম্পর্কিত নিবন্ধ

Leave a Comment