জেলা 

সোস্যাল মিডিয়ায় কুৎসিত আক্রমন সত্ত্বে যুদ্ধ নয় , শান্তির পক্ষেই সওয়াল করছেন শহীদ বাবলু সাঁতরার স্ত্রী মিতা ; প্রশ্ন শহীদের পরিবারের পাশে কেন নেই বাংলার বুদ্ধিজীবীরা ?

শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

বাংলার জনরব ডেস্ক : মিতা সাঁতরাকে আপনাদের মনে পড়ে ! অবশ্যই পড়বে কয়েকদিন আগেই তিনি বিধবা হয়েছেন । এমনি বিধবা তাঁর স্বামী দেশের জন্য জঙ্গীদের হাতে খুন হয়েছেন । পুলওয়ামা কান্ডে শহীদ হয়েছেন বাংলার এই ভূমিপুত্র । তাঁকে নিয়ে আমরা গর্বিত । কিন্ত এই শহীদের স্ত্রী এখন তথাকথিত দেশপ্রেমিকদের হাতে লাঞ্ছিত-অপমানিত । যা বাংলার সংস্কৃতির লজ্জা । ইংরেজির শিক্ষিকা শহীদের স্ত্রী মিতা সাঁতারার অপরাধ কি  জানেন ? তিনি বলেছেন , আমার স্বামীর মৃত্যুর বদলা হিসেবে যুদ্ধ চাই না । বরং দুই দেশের মধ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠা হোক । স্বামীর মৃত্যুশোক কাটিয়েও তিনি বলতে পেরেছেন যুদ্ধ নয় , শান্তি চাই । আমার মত কষ্ট যেন অন্য কোনো স্ত্রীর না হয় । তিনি বলেছেন , আমার শ্বাশুড়ির মত আর কোনো মা কে যেন সন্তান না হতে হয় ।

এমনকী বালাকোটে এয়ার স্ট্রাইকের পরও নিজের এই অবস্থানের কথাই বলেছিলেন তিনি। এরপরেই দেখা গেল কতগুলি স্বঘোষিত দেশপ্রেমিক মিতা সাঁতরা ত্যাগকে বেমালুম ভুলে গিয়ে আশালীনভাবে তাঁকে আক্রমণ করা হচ্ছে । ফেসবুকে ‘বড় দেশপ্রমিকদের’ বেলেল্লাপনার শিকার মিতা। যুদ্ধ চান না বলার জন্য নোংরা ভাষায় আক্রমণ করা হচ্ছে তাঁকে।
আর সোস্যাল মিডিয়ায় এই প্রচারে  শহীদের স্ত্রীর মন ভাল নেই । তিনি সংবাদ মাধ্যমকে বলছেন, ‘আমি এখন সোশ্যাল মিডিয়া দেখার অবস্থায় নেই। কিন্তু যুদ্ধ নিয়ে আমি আমার বক্তব্যে এখনও অটল। যারা আমার বিরুদ্ধে বলছেন, তাদের যেমন বলবার অধিকার আছে, তেমনই আমারও মত প্রকাশের অধিকার আছে।’ সেইসঙ্গে তাঁর গলায় নেমে এসেছে সদ্য স্বামীহারার শোকও। তাঁর কথায়, ‘একজন শিক্ষিকা ও একজন ইতিহাসের ছাত্রী হিসেবে জানি যুদ্ধ কোনও স্থায়ী সুরাহা নয়। তাই একজন স্ত্রী স্বামীকে হারান, একজন মা সন্তানকে, একজন শিশু বাবাকে হারায়। কী লাভ এতে?’

অথচ সোস্যাল মিডিয়ায় তাঁকে অশ্লীলও কুৎসিত আক্রমণ করা হচ্ছে। সেখানে তাঁর চরিত্র নিয়ে এবং বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক বানিয়ে নোংরা অশ্লীল মন্তব্য করে বলা হচ্ছে, তিনি না কি স্বামীকে ভালোবাসতেন না বলেই এমন বলছেন।

বাংলার এক শহীদের স্ত্রীর প্রতি সোস্যাল মিডিয়ায় যেভাবে কুৎসিত ও নোংরা ভাষায় মন্তব্য করা হচ্ছে তা নিয়ে বাংলার বুদ্ধিজীবী নিরব কেন ? সেই প্রশ্নও উঠছে । তাহলে বাবলু সাঁতরা দেশের জন্য নিজের প্রাণ বিসর্জন দিয়ে শহীদ হননি নাকি সোস্যাল মিডিয়ায় বসে দেশপ্রেমের নাটক করলেই তারা দেশপ্রেমিক হয়ে যান । মাননীয় মুখ্যমন্ত্রীও মিতা সাঁতরার পাশে দাঁড়িয়ে প্রতিবাদে সরব হতে পারতেন ।

 

 


শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সম্পর্কিত নিবন্ধ

Leave a Comment