কলকাতা 

রায়গঞ্জ ও মুর্শিদাবাদ কেন্দ্র দুটি জোটের প্রধান বাধা ; অসম্মানজনক শর্তে জোট নয় জানালেন সোমেন ; একলা লড়ার পক্ষে সওয়াল অধীরের

শেয়ার করুন
  • 28
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

বাংলার জনরব ডেস্ক : রায়গঞ্জ ও মুর্শিদাবাদ লোকসভা কেন্দ্র নিয়েই সিপিএম সঙ্গে কংগ্রেসের জোট প্রায় ভেস্তে যেতে চলেছে বলে খবর । এই পরিস্থিতিতে আবার আলোচনায় বসার কথা জানিয়ে জোটের সম্ভাবনাকে বেশ খানিকটা জিইয়ে রাখলেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি সোমেন মিত্র । আসলে কংগ্রেসের দীর্ঘদিনের গড় হল মুর্শিদাবাদ ও রায়গঞ্জ লোকসভা আসন দুটি । ২০১৪ লোকসভা নির্বাচনে সামান্য ভোটের ব্যবধানে এই দুটি আসনে সিপিএম জয়লাভ করে । এরপর থেকেই ওই দুটি আসনেই কংগ্রেসের শক্তি অনেকটাই বেড়ে যায় । তাই কংগ্রেস জোটের শর্তে এই দুটি আসন ছাড়তে কোনোমতেই রাজি নয়। এই নিয়ে জোট প্রায় ঘোটে পরিণত হতে চলেছে । এমনকি সিপিএম কংগ্রেস জোটের অন্যতম প্রবক্তা অধীর চৌধুরিও একলা লড়াই করার পক্ষেই সওয়াল করছেন । এদিকে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি সোমেন মিত্র দাবি বলেছেন , কংগ্রেস সম্মানজনক শর্তে জোট করবে । এই পরিস্থিতিতে আবদুল মান্নান ও প্রদীপ ভট্টাচার্যকে বামেদের সঙ্গে চূড়ান্ত আলোচনা করে জোট সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে৷ বুধবার নির্বাচনী কমিটির বৈঠকের পর প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি সোমেন মিত্র একথা জানিয়েছেন ৷ একই সঙ্গে তিনি জানান, রায়গঞ্জ ও মুর্শিদাবাদের দাবি কংগ্রেস ছাড়বে না৷

সিপিএমের সঙ্গে হাত মিলিয়ে ভোটে লড়ার শত ইচ্ছে থাকলেও কোনরকম অসম্মান সহ্য করবে না কংগ্রেস ৷ আগাগোড়াই একথা বলে আসছেন প্রদেশ সভাপতি সোমেন মিত্র৷ বামফ্রন্ট কংগ্রেসকে ১২টি আসন ছাড়বে যার মধ্যে রায়গঞ্জ ও মুর্শিদাবাদ নেই৷ আলিমুদ্দিনের কর্তাদের এমন কথা প্রকাশ পাওয়ার পরই বিধান ভবনের কর্তাদের অনেকেই ধরে নিয়েছিলেন বামেদের সঙ্গে তাদের জোট প্রায় কফিনবন্দি হয়ে গেল৷

তবে বুধবার দলে সিপিএম জোটপন্থীদের খানিকটা আশার আলো দেখিয়েছেন প্রদেশ সভাপতি৷ তিনি জানান, আগামী রবিবার পর্যন্ত প্রদীপ ভট্টাচার্য ও আব্দুল মান্নানকে বামফ্রন্ট নেতৃত্বের সঙ্গে কথা বলে সিদ্ধান্ত জানাতে বলা হয়েছে। তারপরেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে কংগ্রেস। এদিন সোমেন আরও জানান, “২০২১ পর্যন্ত জোট সম্পর্ক করতে চেয়েছিল কংগ্রেস। বামেরা তাতে সায় দেয়নি। সেক্ষেত্রে বামেদের বক্তব্য ছিল, জোট নয়, কেবল আসন সমঝোতাই সম্ভব কংগ্রেসের সঙ্গে। “

এই প্রেক্ষাপটে সিপিএম ও কংগ্রেসের জোট কোন পথে হয় সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে রাজ্য বাসী । অন্যদিকে বিরোধী দলনেতা আবদুল মান্নানের বিরুদ্ধে হুগলী জেলা কংগ্রেসের একটাংশ প্রদেশ কংগ্রেস দপ্তরে বুধবার বিক্ষোভ দেখায় । বৈঠক চলাকালীন সময়ে এই বিক্ষোভে কংগ্রেস নেতারা অস্বস্তিতে পড়ে যান । প্রদীপ ভট্টাচার্য বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে কথা বলতে গেলে আরও উত্তেজিত হয়ে বিক্ষোভকারীরা । শেষ পর্যন্ত বিধানভবনের গেট বন্ধ করে দিতে হয় । বিক্ষোভকারীদের মূল দাবি ছিল আবদুল মান্নানের জন্য সিপিএম-র সঙ্গে জোট হচ্ছে না । তিনিই হুগলী জেলা কংগ্রেসের বর্তমান অবস্থার জন্য দায়ী ।

 


শেয়ার করুন
  • 28
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সম্পর্কিত নিবন্ধ

Leave a Comment