দেশ 

প্রিয়াংকার প্রথম রোড শোতেই বাজিমাত কংগ্রেসের ; দ্বিতীয় ইন্দিরার ছায়া দেখছে উত্তরপ্রদেশ ,গড়তে হবে এক নতুন ভবিষ্যত এবং নতুন ধরনের রাজনীতি যেখানে সবাই হবে স্টোক-হোল্ডার টুইটে প্রিয়াংকার এই আহ্বানের পর জনসমুদ্র লখনউ ; দ্বিতীয় ইন্দিরার হাত ধরেই নবজাগরণ হল কংগ্রেসের !

শেয়ার করুন
  • 269
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সেখ ইবাদুল ইসলাম : আসবেন একদিন এটা জানা ছিল কংগ্রেস কর্মীদের । তবে এমন এক সময় তিনি এলেন যখন দেশ থেকে কার্যত কংগ্রেস মুছে যেতে বসেছে । নরেন্দ্র মোদীর হিন্দুত্ব রাজনীতি দেশের মজ্জায় পৌছানোর আগেই কংগ্রেস নেত্রী সোনিয়া গান্ধী তাঁর তুরুপের তাসটা বের করলেন । ‘ দ্বিতীয় ইন্দিরা গান্ধী ‘ জন্মের পরেই নাকি রাজীব গান্ধীকে বলেছেন ইন্দিরা গান্ধী । ‘ এ তো আমি রে ‘ । ইন্দিরার মৃত্যুর প্রায় ৩৫ বছর পর আজকের প্রজন্ম প্রিয়াংকার মধ্যে ইন্দিরার ছায়া দেখছে । শুধু আজকের প্রজন্ম কেন – ইন্দিরা জামানার অনেক প্রবীণ ব্যক্তিও স্বীকার করলেন প্রিয়াংকা পারবেন আরেক ইন্দিরা হতে । প্রায় তিন দশক পর উত্তরপ্রদেশের মানুষ দেখল একজন জননেত্রীকে দেখার জন্য জনসমুদ্র হতে । ১৯৮৯ সালের পর থেকে উত্তর প্রদেশে ক্ষমতায় নেই কংগ্রেস । নেই কংগ্রেসের সেই অতীত , নেই সংগঠন । উত্তরপ্রদেশে ২০১৪-র লোকসভা নির্বাচনে মাত্র দুটি আসন পেয়েছিল । আর প্রিয়াংকার আগমনে যেন সকাল থেকে মনে হয়েছে লখনউ-র রাস্তায় নেমে এসেছে সমগ্র উত্তরপ্রদেশের মানুষ ।

কয়েকদিন আগেই তিনি কংগ্রেসের সাধারন সম্পাদকের দায়িত্ব নিয়েছেন । আর পাঁচ জন দলের কর্মকর্তার মতই তিনি নিয়ম করে অফিসে বসছেন । সাধারন কংগ্রেস কর্মীদের সঙ্গে কথা বলছেন । তবে সাংবাদিকদের সঙ্গে কোনো কথা এখন পর্যন্ত তিনি বলেননি । কংগ্রেস সভাপতি হিসাবে দাদা রাহুলই সাংবাদিকদের মুখোমুখি হচ্ছেন । স্বামী রর্বাটকে বেশ কয়েকবার আর্থিক কেলেংকারি অভিযোগে  ইডি জেরা করেছে । কোথাও বিচলিত হননি । মনে হচ্ছে যেন ইন্দিরার সেই দিনের কথা যেদিন প্রিয়দর্শিনীকে জেলে পাঠিয়ে ছিল তৎকালীন জনতা সরকার । একই পথের পথিক হয়ে প্রিয়াংকাও চুপচাপ স্বামীকে নিজের গাড়িতে বসিয়ে পৌছে দিয়েছেন ইডি অফিসে । আসলে তিনি মনে করেন এই সব সংস্থাকে সহযোগিতা করা উচিত । দুধ কা দুধ . পানি কা পানি হয়ে যাওয়ার পর আর কারও কিছু বলার থাকবে না । তাই হয়তো স্বামীর চিন্তা হচ্ছে ঠিকই , কিন্ত কোনো ভাবে হাল ছাড়তে রাজী নন দ্বিতীয় ইন্দিরা ।

আজ সকালেই লখনউ-এর রোড শো নিয়ে টুইট করেছিলেন প্রিয়াংকা । সেই টুইটের কয়েক ঘন্টার মধ্যে ৮৫ হাজার ফলোয়ার হয়ে যায় । কী লিখেছিলেন টুইটে ? কয়েকটি শব্দ মাত্র, গড়তে হবে এক নতুন ভবিষ্যত এবং নতুন ধরনের রাজনীতি যেখানে সবাই হবে স্টোক-হোল্ডার । আর এতেই জন-জোয়ার সৃষ্টি হল সমগ্র লখনউ জুড়ে । মানুষের উচ্ছ্বাস দেখেই উত্তরপ্রদেশের কংগ্রেস মনে করতে শুরু করেছে আর নয় ২০২২-এ লখনউ দখল করবে তারা ।

জন সমুদ্রের মধ্যে থেকে একজন ছুটে এলেন রে রে করে তেড়ে গেলেন নিরাপত্তা রক্ষীরা কিন্ত তাদেরকে বিরত করলেন স্বয়ং প্রিয়াংকা ; আগন্তুক তাদের প্রিয় কন্যাকে  দেখালেন একটি বিয়ের কার্ড । রাজীব গান্ধীর বিয়ের সময় ওই আগন্তুকের বাবাকে আমন্ত্রন করেছিলেন স্বয়ং ইন্দিরা গান্ধী । সময়ের বিচারে ৫২ বছর আগে বিয়ে হয়েছিল সোনিয়া –রাজীবের । নেহেরু –গান্ধী পরিবারের প্রতি কতখানি ভালবাসা থাকলে ৫০ বছর ধরে বিয়ের কার্ড দুই প্রজন্ম আগলে রেখেছে । এসব দেখেই উত্তরপ্রদেশের জনতা এবার পরিবর্তনের ডাকে সামিল হতে চলেছে বলে রাজনৈতিক মহল মনে করছে ।

রোড শো শেষ । সভা শুরু হল । কংগ্রেস সভাপতি হিসাবে রাহুল গান্ধী বললেন , আর নয় এবার দিল্লিতে হবে কংগ্রেস সরকার ; উত্তরপ্রদেশেও ক্ষমতায় ফিরবে কংগ্রেস । প্রিয়াংকাকে আপনাদের সেবা করার জন্য দিয়ে গেলাম । ওর উপর  আস্থা রাখুন দেখবেন উত্তরপ্রদেশ পাল্টে গেছে । উত্তরপ্রদেশ আদৌ পাল্টাবে কিনা তা ওই রাজ্যের মানুষ সিদ্ধান্ত নেবে । কিন্ত প্রিয়াংকার আজকের রোড শো ইঙ্গিত দিল সুদিন ফিরছে কংগ্রেসের । দ্বিতীয় ইন্দিরার হাত ধরেই কংগ্রেসের নবজাগরন হতে যে চলেছে তা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই ।


শেয়ার করুন
  • 269
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সম্পর্কিত নিবন্ধ

Leave a Comment