জেলা 

দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা জুড়ে পালিত হল মে দিবস

শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

পল মৈত্র,দক্ষিন দিনাজপুর

আজ বিশ্ব জুড়ে শ্রমিকদের নিয়ে পালিত হল মে দিবস। তার সাথে পাল্লা দিয়ে সুদুর দক্ষিন দিনাজপুর জেলা জুড়ে বাম, ডান ও নকশাল সংগঠনের কর্মী ও সমর্থকেরা অত্যন্ত নিষ্ঠার সাথে পালন করল আজকের দিনটিকে। এদিন সকালে গঙ্গারামপুর শহর পরিক্রমা করে তৃনমূলের বিশাল মিছিল। পাশাপাশি সিপিএমেরও বিশাল মিছিল সারা শহর পরিক্রমা করে। অন্যদিকে, গঙ্গারামপুর থানার নারই এলাকায় বেশ কয়েকটি চালের মিল থাকায় সেখানকার কর্মী ও শ্রমীকদের নিয়ে দলীয় পতাকা উত্তলনের মধ্য দিয়ে মে দিবস পালন করলেন জেলা সিপিআইএমএল রেড স্টার তথা নকশাল নেতা মানস চক্রবর্তী। এছাড়াও এদিন দলের অন্যান্য বিশিষ্টরাও উপস্থিত ছিলেন পাশাপাশি কুমারগঞ্জ সহ জেলার সদর শহর বালুরঘাটে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের উদ্যোগে এই দিনটিকে পালন হয়।
সারাবিশ্বের শ্রমজীবী মানুষের ন্যাহ্য অধিকার প্রতিষ্ঠায় মে দিবস পালিত হয়ে আসছে। মাঠেঘাটে, কলকারখানায় খেটে খাওয়া শ্রমজীবী মানুষের অধিকার আদায়ে রক্তঝরা সংগ্রামের গৌরবময় ইতিহাস সৃষ্টির দিন। দীর্ঘ বঞ্চনা আর শোষণ থেকে মুক্তি পেতে ১৮৮৬ সালের এদিন বুকের রক্ত ঝরিয়েছিলেন শ্রমিকরা। বিশ্বব্যাপী শ্রমজীবী মানুষের আন্দোলন-সংগ্রামে অনুপ্রেরণার উৎস এদিন। মালিক-শ্রমিক সুসম্পর্ক প্রতিষ্ঠা আর শ্রমিকদের শোষণ-বঞ্চনার অবসান ঘটার স্বপ্ন দেখারও দিন এটি।
এদিন শ্রমিকরা আট ঘণ্টা কাজের দাবিতে যুক্তরাষ্ট্রের সব শিল্পাঞ্চলে ধর্মঘটের ডাক দিয়েছিলেন। সে ডাকে শিকাগো শহরের তিন লক্ষাধিক শ্রমিক কাজ বন্ধ রাখেন। শ্রমিক সমাবেশকে ঘিরে শিকাগো শহরের হে মার্কেট রূপ নেয় লাখো শ্রমিকের বিক্ষোভের সমুদ্রে। এক লাখ ৮৫ হাজার নির্মাণ শ্রমিকের সঙ্গে আরও অসংখ্য বিক্ষুব্ধ শ্রমিক লাল ঝাণ্ডা হাতে সমবেত হন সেখানে। বিক্ষোভের একপর্যায়ে পুলিশ শ্রমিকদের ওপর নির্বিচারে গুলি চালালে ১১ শ্রমিক প্রাণ হারান।
হে মার্কেটের ওই শ্রমিক বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে সারাবিশ্বে। গড়ে ওঠে শ্রমিক-জনতার বৃহত্তর ঐক্য। অবশেষে তীব্র আন্দোলনের মুখে শ্রমিকদের দৈনিক আট ঘণ্টা কাজের দাবি মেনে নিতে বাধ্য হয় যুক্তরাষ্ট্র সরকার।
১৮৮৯ সালের ১৪ জুলাই প্যারিসে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক শ্রমিক সম্মেলনে শিকাগোর রক্তঝরা অর্জনকে স্বীকৃতি দিয়ে ওই ঘটনার স্মারক হিসেবে ১ মে ‘আন্তর্জাতিক শ্রমিক সংহতি দিবস’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়। ১৮৯০ সাল থেকে প্রতি বছর দিবসটি বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ‘মে দিবস’ হিসাবে পালন করতে শুরু করে।


শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সম্পর্কিত নিবন্ধ

Leave a Comment